মো. মাসুম কামালঃ আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৫ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-
১। বিসিএস লিখিত পরীক্ষা, প্রস্তুতির চেয়ে পরীক্ষার হলে আপনি কতটুকু ভালোভাবে লিখলেন অনেকাংশে তার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রস্তুতি অনেক বেশি ভালো না হলেও আপনি ভালোভাবে লিখিত পরীক্ষা দিবেন এ লক্ষ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন।
২। দুইটি এডমিট কার্ড, পেন্সিল, ক্যালকুলেটর, স্কেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।
৩। লিখিত পরীক্ষায় দ্রুত লেখার জন্য কলম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে কলম দিয়ে লিখবেন সেটা দিয়ে এখন থেকেই প্রাকটিস করুন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চালু কলম আগে থেকেই রেডি রাখুন।
৪। Time Management পরীক্ষার হলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো উত্তর কত সময় ধরে লিখবেন এবং কতটুকু লিখবেন তা আগে থেকেই মাথায় সেট করে রাখতে হবে। সাধারণত ৫ নম্বরের জন্য ৬ মিনিট পাওয়া যায়। তবে, আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী সময় বরাদ্দ করে নেবেন।
৫। পরীক্ষা কেন্দ্রে কীভাবে যাবেন আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। সম্ভব হলে কাউকে সঙ্গে নিয়ে যান। তাহলে ব্যাগ ও বই নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। ঢাকায় যারা পরীক্ষা দিবেন তারা সময় নিয়ে বের হবেন। সম্ভব হলে কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন।
৬। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে ২/ ১ মিনিট লিখে হাত চালু রাখবেন। এটা শুরু থেকেই দ্রুত লিখতে সাহায্য করে।
৭। পরীক্ষা শুরুর পর বের হওয়া মানেই সময় নষ্ট, তাই পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় কাজ সেরে পরীক্ষার কক্ষে ঢুকবেন।
৮। পরীক্ষা শুরু হলে উপরে থাকা নাম, বিষয় লেখার পর রোল নম্বর, বিষয় কোড, কেন্দ্র কোড ভালোভাবে পূরন করবেন। লিখিত পরীক্ষা নিয়ে পিএসসি অনেক আন্তরিক। তাই কোনো সমস্যা হলে টেনশন না করে পরীক্ষা শেষ করে হল গার্ড বা কেন্দ্রের কারো সাহায্যে পিএসসির দায়িত্বরত ব্যক্তিকে জানাবেন।
৯। বাংলা ও ইংরেজি রচনা, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি লেখার ক্ষেত্রে শুরুতে এবং শেষে উপযুক্ত কোটশেন ব্যবহার করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটা, চার্ট, মানচিত্র ব্যবহার করবেন। তবে ডাটা চার্টের ক্ষেত্রে অবশ্যই রেফারেন্স উল্লেখ করবেন। সম্ভব হলে পয়েন্টগুলো নীল কালিতে লিখবেন। লেখার শেষে পত্রিকা, জার্নাল বা ওয়েবসাইটের রেফারেন্স দিন।
১০। বিজ্ঞানে চিত্র, সমীকরণ, সংকেত ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। বিজ্ঞানে অল্প লিখেন তবে ভুল লিখবেন না।
১১। গণিত অংশ সমাধান করার সময় মাথা ঠান্ডা রাখুন। দুইবার চেষ্টার পর কোনো অঙ্ক না মিললে পরেরটাতে চলে যান। দুই ঘণ্টায় অনেকগুলো অঙ্ক করতে হয় তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। মানসিক দক্ষতার প্রশ্ন ভালোভাবে পড়ে উত্তর করুন।
১২। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর উপস্থাপন ভালো নম্বর পেতে সাহায্য করে। তাই, বানান ও গ্রামার ভুল করবেন না। হাতের লেখা যথাসম্ভব সুন্দর করার চেষ্টা করবেন। লেখা সুন্দর না হলেও চিন্তার নয় তবে কাটাকাটি ও ঘসামাজা করবেন না। তাহলে ভালো নম্বর আসবে।
১৩। একটা প্রশ্নের উত্তর বেশি, আরেকটা কম এরকম করা যাবে না। নম্বর অনুযায়ী লিখবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রশ্নের উত্তর শেষ করে আসতে হবে এবং কোনো প্রশ্নই ছেড়ে আসা যাবে না এ বিষয়টা মাথায় রাখুন।
১৪। কোনো একটা পরীক্ষা খারাপ হলে সেটা নিয়ে টেনশন করা যাবে না। পরের পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে শেষ করতে হবে। কারণ অন্য বিষয়গুলো ভালো করার মাধ্যমে আপনি খারাপ পরীক্ষাটা কাভার করতে পারবেন।
১৫। লিখিত পরীক্ষার কয়েকটা দিন আপনার শরীরের ওপর দিয়ে একটা ধকল যাবে। এজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কাছেই রাখুন।
১৬। আপনি আপনার সাধ্যমতো সবগুলো পরীক্ষা ভালোভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। অযথা চাপ নিবেন না। সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখুন। নিশ্চয়ই তিনিই উত্তম পরিকল্পনাকারী।
লেখকঃ বিসিএস শিক্ষা, ৪১ তম বিসিএস (সুপারিশপ্রাপ্ত)
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
