ঢাকাঃ বিএনপির ডাকা অবরোধের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৯টি গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এ সময় প্রতিটি গেটে ‘দেশ রক্ষার অবরোধ সফল হোক’ লেখাসংবলিত একটি করে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এদিকে অবরোধের কারণে পরীক্ষা বর্জন করেছে ইতিহাস বিভাগের এক বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৫ নভেম্বর) সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের প্রথম দিন তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। তবে একইদিন সকালে এ তালা ভেঙে ফটক খুলে দেওয়া হয়। ফটক খুলে ফেলার ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি ছাত্রদল।
তালা দেওয়ার কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, মসজিদ গেট, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, চারুকলা অনুষদ এবং সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউট, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এবং বিজ্ঞান লাইব্রেরির ফটকে তালা ঝুলিয়ে ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছে ছাত্রসংগঠনটি। ব্যানারটিতে লেখা ছিল, ‘অবরোধ, অবরোধ, অবরোধ। রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, দেশ বাঁচানো, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনার পদত্যাগ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এই কর্মসূচি পালন করে।
সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা দেশ বাঁচানোর আন্দোলনকে সমর্থন করে। ক্যাম্পাসে আমরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমাদের আন্দোলনে সমর্থন জানাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এদিকে অবরোধের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা পরীক্ষা কক্ষে গিয়ে কাউকে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ে চলে আসেন শিক্ষকরা। পরে তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে নোট দিয়ে আসেন। এখন পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে কি না এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, আমাদের বিভাগে সকালে পরীক্ষা ছিল। সেটি নিতে গিয়ে দেখি পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো শিক্ষার্থী নেই। আধাঘণ্টা দেখে আমরা চলে আসি। তবে আমাদের এখন আরেকটি পরীক্ষা আছে আরেক ব্যাচের সেটি চলবে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে তালা দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোথায় পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেলে সেটি কবে হবে তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই জানতে পারে না। এটি খুবই ভোগান্তির তৈরি করে। আর এ অবরোধের কারণে আমাদের কোনো ক্লাস স্থগিত নেই।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
