ফাইল ছবি

শিক্ষা বোর্ডে সনদ সংশোধনে হয়রানি বন্ধ হোক

কাজী মাসুদুর রহমানঃ বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অর্জিত একাডেমিক শিক্ষা সনদগুলো শুধু চাকরি বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, পাশাপাশি জন্মসনদ, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক ডকুমেন্টের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রে এগুলোতে জন্মতারিখ ও পিতা-মাতার নাম সঠিক কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এসএসসির সনদ চাওয়া হয়। কারণ এসএসসি সনদে আবশ্যকীয়ভাবে এর উল্লেখ থাকে। আবার এসএসসি সনদের ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত পরবর্তী শ্রেণির একাডেমিক ডকুমেন্টগুলোতে শিক্ষার্থী ও তার পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ লিপিবদ্ধ করা হয়। কখনো কখনো এসএসসি নিবন্ধনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হয়। ফলে সনদেও ভুল তথ্য থাকে। শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত নিয়মে সনদের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক ডকুমেন্টগুলোর পাশাপাশি প্রাথমিক সমাপনী কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সমাপনী সনদ চাওয়া হয়। কিন্তু সমাপনী সনদেও ভুল থাকলে তা আগেই সংশোধন করতে বলা হয়। উল্লেখ্য, সমাপনী সনদ সংশোধনের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এফিডেভিট, শিক্ষার্থীর জন্মসনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নসহ দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংশোধনীর বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন হয়। অনেক শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত সনদে সংশ্লিষ্ট কিন্ডারগার্টেনের নাম উল্লেখ আছে। কিন্তু করোনাকালে দেশব্যাপী বহু কিন্ডারগার্টেন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্ধ কিন্ডারগার্টেনগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যয়ন আনতে পারছে না। অথচ তাদেরকে প্রত্যয়নপত্র সংযুক্তির শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, যে প্রতিষ্ঠান চালু নেই তা থেকে তারা কিভাবে প্রত্যয়নপত্র আনবে? এ শর্ত জুড়ে দেওয়ার ফলে স্থবির হয়ে পড়ছে কিন্ডারগার্টেন থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের সনদ সংশোধন।

বলা বাহুল্য, এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পরও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের শর্ত বাড়তি খরচের বোঝা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সব ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরও কমিটির নির্ধারিত সভার জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়। সেই সভায় সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এমন দীর্ঘসূত্রতার ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের শিক্ষাজীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের এনআইডি, পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে এসএসসির সনদ দাখিল করতে হয়। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো এগুলো না পাওয়ার ফলে তারা বিদেশে চিকিৎসা অথবা পড়ালেখার ক্ষেত্রেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব শর্তের বোঝা ও দীর্ঘসূত্রতার ফলে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ঝামেলা এড়াতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে ঘুস-দুর্নীতির ঘেরাটোপে পড়ছে। কালক্ষেপণ ও শর্তের বোঝা সংশ্লিষ্ট অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে সরকার পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাহলে এসব সনদের কার্যকারিতা কী? কেনইবা পরবর্তী উচ্চতর সনদ সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদ সংশোধন ও সংযুক্তির শর্ত জুড়ে দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে? অতীতে যাদের পিইসি, জেএসসি পরীক্ষা ছিল না তাদের এবং এ দুটি পরীক্ষা বাতিলের ফলে ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের তো এমন হয়রানির শিকার হতে হয় না বা হবে না। তাহলে কেন শুধু এ দুটি পরীক্ষাধীন শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে? সংশোধনী নীতিমালায় এরকম দ্বৈতনীতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। শিক্ষার্থীদের এ হয়রানি বন্ধে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ জরুরি।

লেখক: প্রাবন্ধিক, যশোর

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/১০/২০২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.