রংপুরঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে কোনো কাজে গেলেই শুনতে হয় ‘লাঞ্চের পর আসুন’। দিন দিন এই বিড়ম্বনা আতঙ্কে পরিণত হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা দপ্তরে এই ‘লাঞ্চের পর আসুন’ বিড়ম্বনা থাকলেও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে এই বাক্যটি যেন রীতিমতো আইনে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদ তুলতে গিয়ে নানাভাবে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। অফিসে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মচারী-কর্মকর্তা না আসা,নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অফিস থেকে চলে যাওয়া, সার্টিফিকেট প্রাপ্তির তারিখে সার্টিফিকেট না পাওয়াসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো কর্মচারী-কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন শিক্ষার্থীরা। সনদ তুলতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সনদ তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি করে স্বাক্ষর ও ক্লিয়ারেন্স নেয়ার পরও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে এসে ঘটে মূল বিপত্তি। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন পড়লেও শুনতে হয় ‘লাঞ্চের পর আসুন’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় সনদ তুলতে প্রথমে নিজ বিভাগে গিয়ে বিভিন্ন স্বাক্ষর নিতে হয়,পরে সাইবার সেল থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়,এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, হল কর্তৃপক্ষ,মেডিকেল সেন্টার, অ্যাকাডেমিক শাখা ও অ্যাকাউন্টস দপ্তরে ঘুরে ঘুরে ক্লিয়ারেন্স নেয়ার পর সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর বরাবর।
আবেদনের পর জরুরি ভিত্তিতে তিন কর্ম দিবস এবং স্বাভাবিক নিয়মে সাত কর্ম দিবস সময় নেয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রেও জরুরি বাদে সার্টিফিকেট তুলতে গেলে ৭ কর্ম দিবসের চেয়ে আরও বেশি সময় নিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে সনদ প্রদান করতে ব্যর্থ হয় দপ্তরটি।
ভোগান্তির শিকার শিক্ষার্থীরা বলেন,পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার পর সার্টিফিকেট ওঠাতে এখানে আসতে হয়। খুব কম সময় হাতে নিয়েই এখানে আসা। নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তারপরও যদি নির্দিষ্ট সময় ও তারিখে এখানে এসে হাতে সনদ না পাই তাহলে তো খারাপ লাগে। তা ছাড়া কর্মচারী-কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার তো আছেই।
সার্টিফিকেট তুলতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থী নাদিম মাহবুব নিশাত। তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে সনদের আবেদন করি এবং সনদ প্রাপ্তির তারিখ উল্লেখ করেন ৩ অক্টোবর। জরুরি কাজ রেখে এখানে সকাল সকাল এসে সার্টিফিকেট তুলতে গেলে তারা বলেন লাঞ্চের পর আসুন। যদি আবেদনের দিনই বলে দেওয়া হত লাঞ্চের পর দেয়া হয় তাহলে একটু সুবিধা হতো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বেলা ৪টা ১৫মিনিটেই ফাইলপত্র সব গুছিয়ে নিয়েছেন কর্মচারীরা। প্রতিবেদককে দেখে সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করে একজন বলেন, ভালোই করছেন এখন এসে, আমরা তো কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছি আর একটু পর আসলে আজকে আর পাইতেন না।
‘লাঞ্চের পর আসেন’ এই কথাটির উৎপত্তি কোথায় থেকে? এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে এক কর্মচারী বলেন,কন্ট্রোলার এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তিনি আমাদের বলে দিয়েছেন আমরা তাই বলি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়,পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার ক্লাস ও অন্যান্য কাজ সেরে বিকেলের দিকে অফিসে আসায় আগে স্বাক্ষর নেয়া সম্ভব হয় না। তাই এ ধরনের বিড়ম্বনা ঘটে।
তবে এ নিয়ে জানতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড.নিতাই কুমার ঘোষের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলে প্রতিবেদক একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ফিরোজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আমাদের আবার লিখতে হয় তাই লেখার জন্য সময় লাগে। এইজন্য বলি যে ২টার পরে আসেন। আর আমরা চাইলেই ১২টার মধ্যে দিতে পারব যদি লোকবল ঠিক থাকে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/১০/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
