রফিকুল আলম বকুল, মেহেরপুর জেলা প্রতিবেদকঃ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মেহেরপুর জেলার পক্ষ থেকে ক্যাডার বৈষম্য নিরসন, ক্যাডার কম্পোজিশনের সুরক্ষা, পদোন্নতি, পদসৃজন ও স্কেল আপগ্রেডেশনসহ শিক্ষা ক্যাডারের সমস্যাসমুহ সমাধানের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে মেহেরপুর সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফুয়াদ খান এর সঞ্চালনায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবী জানানো হয়, শিক্ষা রুপান্তরের অন্যতম কারিগর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণ। তারাই প্রনয়ন করেছেন নুতন শিক্ষাক্রম এবং এর বাস্তবায়নে তারাই অন্যতম কারিগর অথচ তাদের ন্যায্য দাবী ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এই মুহুর্তে ৭ হাজারের বেশী কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্য অথচ পদোন্নতি পাচ্ছেন না তারা।সংবাদ সম্মেলনে দাবী করা হয় অধ্যাপক পদে ১২০০ জন,সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩০০০ জন,সহকারী অধ্যাপক পদে ৩০০০। এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সরকারের কোন অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন নেই বলে তার দাবী করেন। অন্য ক্যাডারের মতো শিক্ষা ক্যাডারে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি অনুসৃত না হওয়ায় অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগন পিছিয়ে আছেন বলে তার দাবী করেন। সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের পদ সৃজন অপরিহার্য অথচ বর্তমানে সরাকরি কলেজসহ শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ১৬০০০ হাজার। শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে ১২৪৪৪ টি পদ সৃজনের প্রস্তাব আটকে আছে দীর্ঘ ৯ বছর যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বলে উল্লেখ করেন সমিতির পক্ষ থেকে। সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয় শিক্ষার মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ৪র্থ গ্রেডের উপর কোন পদ নাই অন্য ক্যাডারে কর্মকর্তাগণ পঞ্চম গ্রেড থেকে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পান কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে সর্বোচ্চ পদ অধ্যাপক চতুর্থ গ্রেড। সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয় অধ্যাপক পদটি তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করা এবং আনুপাতিক হারে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের পদ সৃষ্টি করা। তারা দাবী করেন ২০১৫ সালে নুতন পে স্কেলে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাডার হচ্ছে শিক্ষা ক্যাডার। শিক্ষা ক্যাডারকে অবকাশকালীন বিভাগ করে রাখায় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা পুর্ন বেতনে অর্জিত ছুটিনথেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবী করেন তারা। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অবকাশ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা ছুটি ভোগ করলেও শিক্ষকগণ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, ভর্তি,রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ সহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষকগণ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন। শিক্ষকগণ অবসরাকলীন ১০-১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিভিন্ন কমিটির সুপারিশে অধ্যাপক পদমর্যাদা সম্পন্ন পদসমূহের মধ্যে ৪২৯ টি পদকে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শরু করা হলেও তা সম্পুর্ন অজ্ঞাত কারণে মাত্র ৯৮ টি পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করতে জনপ্রশাসন মন্রনালয় সম্মতি দেয় । দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হলো শিক্ষা প্রসাশনসহ অন্যান্য সেক্টরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অফিস থাকলেও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য শক্তিশালী শিক্ষা প্রশাসন গড়ে ওঠেনি বলে তারা দাবী করেন। তারা বলেন দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে শিক্ষা ক্যাডার নিয়ন্ত্রিত জেলা ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন জরুরী।
তারা দাবী করেন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী জরুরী। সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫১২ টি পদ শিক্ষা ক্যাডারের তফসিল বহির্ভূত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি চুড়ান্ত করা হয়েছে যা শিক্ষা ক্যাডারের অস্তিত্বের উপর আঘাত বলে তারা দাবী করেন।সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয় একটি দক্ষ, যুগোপযোগী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষায় জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে উপজেলা,জেলা অঞ্চলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তর, অধিদপ্তর,ও প্রকল্প পরিচালনায় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ সময়ের দাবী। তারা দাবী করেন বিভিন্ন জাতীয় দিবস সহ সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের যথাযথ মর্যাদা ও মুল্যায়ন করা হয় না। তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী করেন শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন দাবী ও বৈষম্যের সমাধানে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিউল ইসলাম সরদার, সমিতির জেলা ইউনিটের সভাপতি মেহেরপুর সরকারি কলেজের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু , সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খেজমত আলী মালিথা, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান সরকারী মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ আতিয়ার রহমান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিরাজুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মইনুল ইসলাম, নজির আহমেদ সিদ্দিকী, ইংরেজি বিভাগের মনিরুজ্জামান সহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমিতির বিভিন্ন দাবী সংবলিত লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা ইউনিটের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৬/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
