কিশোরগঞ্জঃ জেলার করিমগঞ্জে এক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বহিষ্কার দুই শিক্ষকের লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অপদস্ত করায় ও খন্ডকালীন এক শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেয়ায় ক্লাস বর্জন করেছে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নোয়াবাদ ইউনিয়নে বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এ বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভে দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত দুই সহকারী শিক্ষক মো: কামরুল ইসলাম ও সালমা আক্তারকে স্থায়ীভাবে অপসারণেরও দাবি তুলে শিক্ষার্থীরা।
স্কুলের মাঠে প্ল্যাকার্ড হাতে তারা প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের অপদস্থকারীদের শাস্তি ও ইংরেজি বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক তানভীর আহমেদকে নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে আসার সুযোগ দেয়ার দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বিদ্যালয় আসার সময় প্রায়ই বরখাস্ত শিক্ষকদের স্বজনেরা পথ আটকে দেয়। একবার তার মোটরসাইকেল আটকে রেখে তাকে মারধর করতে উদ্ধত হয়।
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক করিমগঞ্জ থানায় একটি জিডিও করেছেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নেয়ায় বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক তানভীর আহমেদকে বিদ্যালয়ে আসতে দেয়া হচ্ছে না।
এ কাজে সহযোগিতা করছে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (গণিত) মোহাম্মদ সামছ উদ্দিন। বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক না থাকায় এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা বিক্ষোভ করছে বলেও জানায়।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা খন্ডকালীন শিক্ষক তানভীর আহমেদকে বাড়ি থেকে ফুলের মালা দিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এবং তার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে।
একপর্যায়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর (সিয়াম আহমেদ শুভ) বাবা বরখাস্ত দুই শিক্ষক এবং গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কামরুল ইসলাম সালমা আক্তার ও সামছ উদ্দিন এই তিন শিক্ষকের কারণে বিদ্যালয়ে কোনো ভালো শিক্ষক আসছে না। বিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়ানোর দক্ষ শিক্ষক নেই। শুধু হিংসার কারণে খণ্ডকালীন শিক্ষক তানভীর আহমেদকে তারা তাড়ানোর চেষ্টা করছে। তানভীর চলে গেলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি তানভীরকে যেন বিদ্যালয়ে বহাল রাখা হয়, প্রয়োজনে আমরা বেতন দেব।’
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি ইসলাম ও মিম আক্তার বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক অমায়িক একজন মানুষ। তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। খন্ডকালীন শিক্ষক তানভীর স্যারকে আনার কারণে আমাদের ইংরেজিতে দক্ষতা বেড়েছে। তাই আমরা প্রধান শিক্ষক ও তানভীর স্যারের পক্ষে বিক্ষোভে নেমেছি। বিক্ষোভ করার কারণে সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছ উদ্দিন তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানায় তারা।’
তবে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: সামছ উদ্দিনের দাবি, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যের উস্কানিতে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি দুই সহকারী শিক্ষক মো: কামরুল ইসলাম ও সালমা আক্তারকে বিনা কারণে, হয়রানির উদ্দেশে বরখাস্ত করেছে। এদিকে খন্ডকালীন শিক্ষক তানভীর আহমেদ বিদ্যালয়ের নিয়ম মানেন না, বাইরে কোচিং করান এবং সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আমার অবস্থান।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পেছনে প্রধান শিক্ষক ও ওই খন্ডকালীন শিক্ষকের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যদি খারাপ হতাম বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী আমার পক্ষে থাকবে কেন? ওদেরকে তো আমি বলে দেইনি বিক্ষোভ করতে। ওরা ক্লাস বর্জন করেছে, আমি বলেছি বাবারা তোমরা ক্লাসে যাও। তোমাদের দাবির বিষয়গুলো ম্যানেজিং কমিটি দেখবে, প্রশাসন দেখবে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
