ঢাকাঃ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণ প্রকল্পের গোড়ায় গলদ। সমীক্ষা ছাড়াই এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়। এমনকি নির্মিত ভবনগুলোয় ব্যবহৃত ইটের ৩৫ শতাংশই নিম্নমানের। নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে কয়েকটি ভবনে। ধীরগতি কাজের ফলে ৪ বছরে প্রকল্পের অর্ধেক কাজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
‘কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। সম্প্রতি বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্পটির নিবিড় পরিবীক্ষণ করে জানায়, ৬৪টির মধ্যে ১টির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া ১৮টির অগ্রগতি ৭৫ শতাংশের বেশি, ১২টির অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি, ১৫টির অগ্রগতি ২৫ শতাংশের বেশি, ১৭টির অগ্রগতি ২৫ শতাংশের নিচে এবং ঝালকাঠি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ। সর্বশেষ অনুমোদিত সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত (৪ বছর) বাস্তবায়ন ৪৫ শতাংশ।
নিবিড় পরিবীক্ষণের প্রতিবেদন তৈরিকালে ৩২টি টেকনিক্যাল স্কুল কলেজ ভবনে ব্যবহৃত ইট-পাথর ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীসহ ঢালাই টেস্ট করা হয়। এতে অন্যান্য উপকরণ মান যথাযথ হলেও ৩৫ শতাংশ ইট নিম্নমানের ব্যবহার হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
আইএমইডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী চলমান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি। আইএমইডির মূল্যায়ন প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক সব্রত পাল কে বলেন, প্রকল্প তৈরির নির্ধারিত আট মাস পরে অনুমোদিত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে আরও আট মাস সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে করোনকালীন প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকে। ওই সময়ে প্রকল্পটিকে অন-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং আর্থিক বরাদ্দ সীমিত রাখা হয়। ফলে প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, কারিগরি শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দেশে বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন
ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রকল্পটি গ্রহণ করে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে জুন ২০২১ মেয়াদে ১৪৯৩.৬৫ কোটি টাকা জিওবি অর্থায়নে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব, কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রথম দুবছর প্রকল্পের অগ্রগতি ১.৫ ভাগ হওয়ায় পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি (ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত) করে ১৩৯৫.৬৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণপূর্বক প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৭ তলাবিশিষ্ট ১৩টি ও ৫ তলাবিশিষ্ট ৫১টি একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ করা।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল, কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আধুনিক কারিগরি জ্ঞান সমৃদ্ধ দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণসহ বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহে গতিশীলতা এনে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৯/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
