ঢাকাঃ বাংলাদেশে প্রতিবছর ৪ লাখ ৩ হাজার ৩১৭ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং প্রায় ৭ হাজার ৫১১ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে দেশে প্রতিবছর প্রতি লাখে ২৪৪ জন সাপের কামড়ের শিকার হন এবং প্রায় ৫ জন মানুষ মারা যায়। মোট আক্রান্তের ৯৫ ভাগই হলো গ্রামে।
রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে এমন চিত্র। অনুষ্ঠানে আয়োজন করেন অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিসি)। বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২০২১-২০২২ সালের মধ্যে পরিচালিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের উপর মোট ১৭টি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
এতে এনসিডিসি দেশব্যাপী একটি সর্পদংশন জরিপ বলা হয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগ ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার অংশগ্রহণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় দেশব্যাপী দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত ২০০টি পিএসইউ এর ৬২,০০০ খানাতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্বে চিকিৎসা গ্রহণ করা ৪০০ জন সর্পদংশন রোগীর বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা যাচাই করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের সমীক্ষা অনুসারে, যত সংখ্যক মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হয় এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার, এবং নারীদের তুলনায় পুরুষরা ১ দশমিক ৪ গুণ বেশি সাপের কামড়ের ঝুঁকিতে থাকে।
জরিপে বলা হয়, আর এসব সাপের কামড়ের ৪ ভাগের এক ভাগ বিষাক্ত সাপের কামড়ে হয়ে থাকে। যার মাঝে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ শারীরিক এবং ১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে থাকে। সর্পদংশন বেশি ঘটে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে। ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী পুরুষরা বাড়ির আশেপাশে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের ভেতরে সবচেয়ে বেশি সাপের কামড়ের শিকার হন।
জরিপে দেখা যায়, দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ দংশনের পর অঙ্গে গিঁট দেন এবং ৬৫ ভাগ মানুষ প্রথমেই ‘ওঝা’ বা প্রচলিত চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নেন। সর্পদংশনের পরে প্রতি হাজারে ২ জন মানুষের অঙ্গহানি ঘটে এবং ২ থেকে ২৩ ভাগ মানুষ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা ভোগ করেন। সর্পদংশনের পর শতকরা প্রায় ১০ ভাগ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি অবসাদগ্রস্ততায় আক্রান্ত হন। এছাড়া প্রতিটি সর্পদংশনের কারণে চিকিৎসার জন্য দংশিত ব্যক্তির প্রায় ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
জরিপে আরও জানা গেছে, মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীরাও সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। প্রতিবছর প্রায় ১৯ হাজার গৃহপালিত পশু সর্পদংশনে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে আড়াই হাজার গৃহপালিত পশু মারা যায়। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন. দেশে আশঙ্কাজনক হারে অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই কোনো না কোনো অসংক্রামক রোগে হচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। এর মধ্যে দেশে প্রতি চারজনে একজন উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন। বায়ু দূষণ, ইট ভাটার ধোঁয়া, খাদ্যে ভেজালসহ নানা কারণে এসব রোগের বিস্তার ঘটছে।
দেশে সাড়ে চার কোটির বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত- একথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের অধিকাংশ জানেনই না তাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন দেশে ১০ শতাংশ (দেড় কোটি) মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে স্থূলতার হার বেড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ হার বেশি। দেশে এক কোটি শিশু স্থূলতায় ভুগছে।
তিনি বলেন, বায়ু দূষণ, খাদ্যে ভেজালের কারণে পেটের পীড়া, এমনকি ক্যান্সারও হয়। তামাকজনিক কারণে, মাদকের কারণে অনেক লোক মৃত্যুবরণ করে। যদিও তামাকের ব্যবহার আশাব্যঞ্জক হারে কমেছে।
জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের স্থূলতাও (ওবিসিটি) বাড়ছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ওবিসিটির মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে শিশুদের এটি বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খোরশেদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক টিটু মিয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন প্রমুখ।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০৬/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
