নিউজ ডেস্ক।।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে গঠিত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ অধ্যাদেশ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় গত এপ্রিলে। এবার ওই সচিবালয়ের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবসহ মোট ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে সচিবালয় বিলুপ্ত হওয়ার পর এবার নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তর হয়ে গেল।
গতকাল মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশে এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ ও একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের নিম্নবর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্তে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে ছক করে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক পদ এবং সংযুক্ত পদ উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল এটি জারি হলেও এর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে।
অপরদিকে অফিস আদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের নিম্নবর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্তে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। তদনুসারে তাদের দাখিল করা যোগদানপত্র ১০ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণ করা হলো।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এই সচিবালয়ে একজন সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তবে এই সচিবালয় কার্যকর হওয়ার আগেই গত ৯ এপ্রিল সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস করা হয়। যার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অধীনে অধস্তন আদালতের জন্য প্রতিষ্ঠিত পৃথক সচিবালয় বিলুপ্ত করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পরের দিন ১০ এপ্রিল এ বিষয়ে গেজেট জারি করে সরকার। গেজেটে বলা হয়, আজ থেকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা হলো। এ-সংক্রান্ত সব পদ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া সচিবালয়ের অধীনে থাকা সব বাজেট, প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার রায়ের আলোকে অধস্তন আদালতের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই রায়ের বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকার সেই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেনি। গত ৯ এপ্রিল অধ্যাদেশটি রহিত করে বিল পাস করা হয়। এই বিল পাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এরই মধ্যে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। যেটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

