এনটিআরসিএ: ১৮ বছরের পুরনো আইনের যা যা সংশোধন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ সংশোধন করা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে তৈরি ১৮ বছরের পুরনো এ আইনের শিরোনামসহ বিভিন্ন ধারা-উপধারায় সংশোধনী এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) বিদ্যমান আইনটি কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (সিইডিপি) ডিএলআই-এর শর্ত হিসেবে এনটিআরসিএর বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনটির সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৫ সালের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এনটিআরসিএর মূল দায়িত্ব ছিল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালে ৩০ ডিসেম্বর এক পরিপত্রের মাধ্যমে এনটিআরসিএ’কে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদে শিক্ষক নির্বাচন করে নিয়োগ সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

ওই পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে শূন্যপদের চাহিদা গ্রহণ করে।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ করে মেধাক্রম প্রণয়ন করে এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে নিবন্ধনপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে প্রার্থী নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেয়।

এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি এনটিআরসিএ কর্তৃক নির্বাচিত প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করে।

পুরনো আইনের সঙ্গে অসঙ্গতি হচ্ছে, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩০/১২/২০১৫ খ্রি. তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী শূন্যপদের চাহিদা গ্রহণ করে নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মেধাক্রম প্রস্তুত করার বিষয়টি এবং নিয়োগ সুপারিশের জন্য আবেদন গ্রহণ করে চাহিদা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করার বিষয়টি বিদ্যমান আইনে নেই। ফলে নানারকম জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালে বিভক্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। আইনটি ২০০৫ সালে প্রণীত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগে বিভক্ত হওয়ার বিষয়টি বিদ্যমান আইনে নেই।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবরের এক পরিপত্রে সরকারের বিভিন্ন পদনাম যেমন ‘সচিব’, ‘অতিরিক্ত সচিব’, ‘যুগ্ম সচিব’, ‘উপসচিব’ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে এনটিআরসিএর বিদ্যমান আইনে ‘সচিব’ পদনাম থাকায় তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যূ হচ্ছে- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়টি বিদ্যমান আইনে নেই। ফলে সংশোধনী আইনে এমপিও নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

এমনকি বিদ্যমান আইনের ধারা ২-এর সংজ্ঞা অংশে দফা (ক)-তে বর্ণিত কর্তৃপক্ষ এর সংজ্ঞা নিম্নরূপে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় : (ক) ‘কর্তৃপক্ষ অর্থ ধারা ৩-এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও নিয়োগ সুপারিশ কর্তৃপক্ষ।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.