আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক পালালেন ভারতে

পঞ্চগড়ঃ  হাওয়ার ওপর চলছে পঞ্চগড়ের সাকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার দুটি পৃথক মামলায় দেড় বছরের কারাদণ্ডসহ ৩২ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ হওয়ার পর পরই স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সায়েদ মঞ্জুরুল হাসান সূজা সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত চার লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

আর তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির সুযোগে স্কুলের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রধান শিক্ষকেরই নিকটাত্মীয় (ভায়েরা) বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান। অথচ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক যথারীতি কর্মরত থাকলেও স্কুলের অর্থসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনিয়মতান্ত্রিক ও সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে পরিচালনা করছেন সভাপতি নিজেই।

জানা যায়, ১৭ মে পঞ্চগড়ের যুগ্ম-দায়রা জজ আদালত অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণামূলক অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক সায়েদ মঞ্জুরুল হাসান সূজাকে এক বছর কারাদণ্ড ও ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

অপরদিকে একই অভিযোগে অপর একটি মামলায় ঠাকুরগাঁও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ ২৮ মে প্রধান শিক্ষক সায়েদ মঞ্জুরুল হাসান সূজাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালতের রায় ঘোষণার পর পরই প্রধান শিক্ষক স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার আদায়কৃত সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। এদিকে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের ভায়েরা ভাই, শ্যালক মমিনুল ইসলাম বুলেট সদস্য, মামা শ্বশুর জামিউল হক সুমন ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছাড়া অন্য সদস্যরা পরস্পর আত্মীয়স্বজন হওয়ার কারণে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনেও কোনোরূপ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে বিদ্যালয়টিকে চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এদিকে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের চারজন কর্মচারী যথাক্রমে একজন ল্যাব অ্যাসিসট্যান্ট, একজন অফিস সহায়ক, একজন আয়া ও একজন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দিয়ে ৪৩ লাখ টাকা আদায় করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, যা পরবর্তীতে ভাগবাটোয়ারা করা হয়।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আদালতের রায়ের কোনো কাগজ না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর কর্মচারী নিয়োগেও আমি কোনো অর্থ নিইনি। স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.