রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার (১৫) নামে ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩ নভেম্বর) কলেজটির সাবেক ছাত্র ওবায়েদ আহমেদের পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাইজুল্লাহ ফয়েজ।
শুক্রবার (০১ নভেম্বর) বিকালে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হলে নাইমুল আবরারকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবরারের মৃত্যুর সংবাদে ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে গতকাল শনিবার (০২ নভেম্বর) ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ প্রদানসহ ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।
তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত বক্তব্য দিতে হবে, গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে পত্রিকায় বিবৃতি দিতে হবে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ছাত্রদের হাতে পৌঁছাতে হবে।
কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে এদিন তদন্ত কমিটি করেছে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম আহমেদ বলেন, ‘নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’ এ ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে কলেজের সায়েন্স ক্লাব।
আবরারের মৃত্যুর খবরে রাত থেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোক-নিন্দা এবং ‘ছাত্রের মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া নিয়ে’ সমালোচনা শুরু হয়।
শনিবার বিকালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমালোচনার পর এ ঘটনায় কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক এক ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে আবরারের মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের (কিশোর আলো দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী) অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে রবিবারাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদপত্রটির কার্যালয় ঘেরাও করতে একটি ফেসবুক ইভেন্ট খোলা হয়েছে।
নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার কোনো অভিযোগ দেয়নি। এ কারণে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তারা ময়না তদন্ত ছাড়া মরদেহ নেবে- এজন্য একটি মুচলেকাও দেয়। আমরা মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দিয়েছি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল