রাজশাহীঃ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকার কথা থাকলেও রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টিতেই তা নেই। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি থাকলেও সেগুলোতে শিক্ষার্থীদের পদচারণা নেই। অধিকাংশ শিক্ষার্থী জানেই না তাদের প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকার কথা। অথচ ২টি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত বাকি সব প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরিয়ান পদে লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন।
চারঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারঘাট উপজেলায় ১২টি কলেজ, ১০টি মাদ্রাসা, ৫৮টি মাধ্যমিক ও ১৩টি কারিগরিসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৬টি প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি রয়েছে।
সরজমিন দেখা গেছে, লাইব্রেরি আছে জানিয়ে ৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১টিতে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৬টি প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকলেও সেগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত নেই। নিয়মিত খোলাও হয় না।
কোনোটিতে কিছু বই থাকলেও তা স্টাফ রুমের আলমারিতে রাখা হয়েছে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি কক্ষকে বানানো হয়েছে স্টোর রুম কিংবা ডিজিটাল ল্যাব।
উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সরদহ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে সাজানো গোছানো লাইব্রেরি থাকলেও কার্যক্রম দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ। সেখানে লাইব্রেরিয়ান না থাকায় একজন শিক্ষককে লাইব্রেরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের পদচারণা নেই।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম বলেন, আমাদের লাইব্রেরি আছে কিন্তু লাইব্রেরিয়ান পদে জনবল নেই। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩য় শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লাইব্রেরি ক্লাস চালু করা হবে।
এদিকে উপজেলার রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিবুল ইসলাম বলেন, স্কুলে লাইব্রেরি কিংবা লাইব্রেরিয়ান আছে কখনো শুনিনি। পাঠ্য বইয়ের বাইরে সাহিত্যের বই পড়ার আমাদের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজদার রহমান বলেন, আমাদের লাইব্রেরির আলাদা রুম নেই। তবে স্টাফ রুমে চালু আছে। লাইব্রেরি কার্যক্রম না থাকায় লাইব্রেরিয়ান শিক্ষার্থীদের অন্য বিষয়ের ক্লাস নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিয়ানরা জানান, প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির জন্য আলাদা একটি ফান্ড আছে। কিন্তু এর অর্থ খরচ করা হয় অন্য খাতে। যার কারণে লাইব্রেরির জরাজীর্ণ অবস্থার অবসান হচ্ছে না।
এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বাণিজ্য করতেই পদ সৃষ্টি করে উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সরকারি সকল সুবিধা গ্রহণ করলেও কোনো প্রতিষ্ঠানেই লাইব্রেরি কার্যক্রম চালু নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শফিউল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাইব্রেরি কার্যক্রম নেই। অথচ সবগুলো প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরিয়ান পদে লোক নিয়োগ দিয়ে বেতন ভাতা গ্রহণ করছেন। মাধ্যমিক থেকে একাডেমিক অনুমোদন নেয়ার সময় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিখিত মুচলেকা দেয় যে, তারা নিজ উদ্যোগে লাইব্রেরি গড়ে তুলবে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৯/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
