এইমাত্র পাওয়া

শাহরাস্তি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস: দুই কর্মচারীকে টাকা না দিলে মেলেনা সেবা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুরঃ জেলার শাহরাস্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যেন টাকার টাকশাল। টাকা দিলে সেবা মেলে টাকা ছাড়া মেলে বাজে আচরণ আর সময়ক্ষেপণ। এমনই অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে। আবুল হাসনাতের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন একই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আরিফ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষক এমনকি প্রাথমিকের অফিস সহকারীরাও যদি কোন সেবা নিতে যান টাকা ছাড়া কোন সেবাই মেলেনা। যে কোন কাগজপত্র জমা দিতে গেলেই অফিস সহকারীকে দিতে হয় হয় তিনশ টাকা, কোন সহকারী শিক্ষিকা মাতৃত্বকালিন ছুটির আবেদনের জন্য গেলে দিতে হয় এক থেকে দুই হাজার টাকা।

যে সেবায় যত টাকা

শিক্ষাভাতার জন্য ৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, ডিপিএড শুরুতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা ডিপিএড শেষে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, সার্টিফিকেট জমা দিতে গেলে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, পে ফিক্সেশনের জন্য ১০০ টাকা। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতার জন্যও দিতে হয় টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একাধিক সহকারী শিক্ষক বলেন, চাকরি করতে এসে মনে হয় আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পিয়নের গোলাম। টাকা না দিলে তো কোন কাজই হয়না। এমনভাবে ব্যবহার করেন যেন মনে হয় আমরা সরকারের নয় ঐ অফিস পিয়নের কর্মচারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সহকারী শিক্ষিকা বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য সেখানে গেলেও টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া গেলে এই দিন আসেন ঐ দিন আসেন এমন করতে থাকে। বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে মেলেনা কোন সেবা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আমি একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা অফিসে কাজের জন্য গেলে নিজেকে আর প্রধান শিক্ষক মনে হয় না। উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মচারীদের অধীনস্থ কর্মচারী মনে হয়। এমন ব্যবহার করেন তারা যা বাইরে এসে বলতেও লজ্জা লাগে। আর কোন কাজ টাকা না দিলে তো সহজে করে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আবুল হাসনাত অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল রাতে শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমার শরীর টা একটু খারাপ বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে কম্পিউটার অপারেটর আরিফের সাথে করে একসাথে এ বিষয়ে কথা বলব। আজ তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে কম্পিউটার অপারেটর আরিফ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুর রহমান ভুঁইয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি চাই আমার অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত। যারা আপনাদের কাছে অভিযোগ করেছে তাদেরকে বলেন আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে। আমি ব্যবস্থা নিব। আমি মৌখিক ভাবে বললে হয়ত তারা শুনছে না লিখিত অভিযোগ পেলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি চাঁদপুর জেলাতে মিটিংয়ে আছি। উপজেলাতে ফিরে এই বিষয়ে খোঁজ নিব। এরকম করে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৩/০৪/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.