জাকির হোসেনঃ ‘শিক্ষা জীবন কত না মধুর হইত যদি পরীক্ষা না থাকিত’। আমাদের ছাত্রজীবনে এ লাইনটি অনেক শুনেছি। কখনো বাবা-মা, কখনো শিক্ষকের মুখে। এ লাইনটি তাকেই শুনানো হতো, যারা পরীক্ষার ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়তেন। কিন্তু সত্যি সত্যি পরীক্ষা দিতে হবে না এ তো স্বপ্নেরও বাইরে।
আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে নানা গবেষণা চলছে, প্রায় তিন দশক ধরে। শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকীকরণের নামে শিক্ষাপদ্ধতিতে আনা হচ্ছে পরিবর্তন। কোনো ব্যবস্থা পাঁচ-সাত বছর, কোনোটি দশ-বারো বছরের বেশি টিকছে না। শিক্ষাপদ্ধতি চালুর আগে, এর সক্ষমতা যাচাই ও ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার মূল্যায়ন না করায় সেই পদ্ধতি টেকসই হচ্ছে না। শিক্ষাপদ্ধতি চালুর পর তাতে অভ্যস্ত করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যা অনেকটা গিনিপিগের মতো।
চলতি বছর থেকে চালু হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম। এই শিক্ষাক্রমে শিখনকালীন মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে। আগামী বছর দ্বিতীয় ও
তৃতীয় শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণি এ শিক্ষাক্রমের আওতায় আসবে। ২০২৫ সালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি এবং ও দশম শ্রেণি যুক্ত হবে। ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালের দ্বাদশ শ্রেণি যুক্ত হবে।
নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শতভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন থাকছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কোনো পরীক্ষায় বসতে হবে না। নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ ও ৫ম শ্রেণিতে ৮ বিষয় আছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান) হবে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৪০ শতাংশ। বাকি তিনটি বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, ধর্মশিক্ষা এবং শিল্পকলা রয়েছে। এগুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন ১০টি বিষয় রয়েছে। এরমধ্যে- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ আর ৪০ শতাংশ হবে সামষ্টিক মূল্যায়ন। নবম ও দশম শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ হবে শিখনকালীন মূল্যায়ন, বাকি ৫০ শতাংশ হবে সামষ্টিক মূল্যায়ন। জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্মশিক্ষা (প্রত্যকে ধর্ম অনুযায়ী) এবং শিল্প ও সংস্কৃতি- এই পাঁচটি বিষয়ে শতভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন। নতুন শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিকে কোনো বিভাগ বিভাজন থাকছে না।
একাদশ ও দ্বাদশে গিয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৩০ শতাংশ। আর মূল্যায়ন হবে ৭০ শতাংশ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির পর প্রতি বর্ষ শেষে হবে একটি করে পরীক্ষা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।
এই শিখন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তর কোনো গবেষণা কি হয়েছে? এ পদ্ধতি কি আদৌ টেকসই হবে? নাকি এটাও একটি শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষা। ইতিমধ্যে সরকার স্কুলগুলোতে এ পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলেছে। কিন্তু অনেক শিক্ষক এখনো বুঝে উঠতে পারেননি, পরীক্ষা ছাড়া কীভাবে মূল্যায়ন করা যায় একজন শিক্ষার্থীকে। এ কারণে অনেক বিদ্যালয়ে এখন শুধু পড়িয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
শিখন পদ্ধতি চালু হলেও, সম্প্রতি কিছু কিছু বিদ্যালয় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা যেন না করা হয় সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কিন্তু মূল্যায়নের পদ্ধতিটি কী হবে- সেটা কি স্কুলগুলোকে বলা হয়েছে? এখনো তা বলা হয়নি। তবে শিক্ষকরা কীভাবে পাঠ্যক্রম চালিয়ে যাবেন? কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা কি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট।
একটু পেছন ফিরে তাকাই। ৮০ দশক পর্যন্ত আমাদের দেশে পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় চালু থাকে। একই বই বছরের পর বছর পড়ানো হয়েছে। সেই শিক্ষায় ছিল না আধুনিকতার ছোঁয়া। যদিও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরব থাকত শিক্ষার্থীর কচিকণ্ঠে। সুর করে ছড়া কবিতা পড়া হতো। যা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় অনুপস্থিত। পরীক্ষায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কবিতার প্রথম ১০ লাইন লিখতে হতো কবির নামসহ। এছাড়া সুন্দর হাতে লেখার জন্য কোনো স্কুলে নম্বরের ব্যবস্থা ছিল। প্রাথমিকে উদ্দীপনার জায়গা ছিল- বৃত্তি পরীক্ষা। স্কুলগুলো বাছাইকরা শিক্ষার্থীদের অর্থাৎ ক্লাসে প্রথম ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পাঠাত। কেননা, এখানে বিদ্যালয়ের সুনাম জড়িত থাকত। একই ভাবে অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তির ব্যবস্থা ছিল। যা মেধা যাচাইয়ের অন্যতম মাধ্যম ছিল।
প্রাথমিক মাধ্যমিকের সব শ্রেণির প্রশ্নগুলো অনুশীলনী থেকে নেওয়া গৎবাঁধা ছিল। উত্তরও একই। শব্দার্থ, রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ কিংবা শ্ন্যূস্থান পূরণ ছিল মাধ্যমিকের সব ক্লাসে। শিক্ষার্থীদের ভয়ের সাবজেক্ট ছিল ইংরেজি ও অঙ্ক। দেখা যেত, এসএসসি পরীক্ষায় এই দুটি বিষয়ে বেশি ফেল করত। যে কারণে এসএসসিতে পাসের হার ৩০ শতাংশের ঘরে থাকত। এসএসসির বোর্ডে মেধা তালিকার ২০ জনকে দেওয়া হতো বিশেষ সম্মান। বলা হতো, এই ছাত্র স্ট্যান্ড করেছে। যার ছবি ছাপা হতো পত্রিকার পাতায়। তাকে চিনত সারা দেশের মানুষ। ভালো ছাত্র খারাপ ছাত্র বাছাই হয়েছে ডিভিশনে।
এই শিক্ষাব্যবস্থার একজন শিক্ষার্থীকে অনেক বেশি পড়তে হতো, মুখস্থ করতে হতো, হাতে লেখার চর্চা হতো, শুদ্ধ লিখার চর্চা হতো। কিন্তু অনাধুনিক, আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানদ-ের ধারেকাছে না থাকার কারণে এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।
১৯৯২ সালে প্রথম শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয় নৈর্ব্যত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে। গণিত বাদে বাকি ৯টি বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর এমসিকিউ যুক্ত হয়। এরশাদ সরকারের শাসনের শেষ ভাগে এ পদ্ধতি যুক্ত হওয়ার ঘোষণা আসে। এর মূল লক্ষ্য ছিল শুধু নির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্তরে সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা বই পড়ার চর্চা করা। এ পদ্ধতির প্রথম এসএসসির বোর্ড পরীক্ষা হয় ১৯৯২ সালে। অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি তৈরি হয় পাস করা নিয়ে। ফলে ১৯৯১ সালের এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে, কিছু স্কুল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামে এ পদ্ধতি বাতিল করার জন্য। ওই সময় বিদ্যালয়গুলোতে ৫০০ প্রশ্নব্যাংক নামে নমুনা প্রশ্ন পাঠানো হয়। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে এই ৫০০ প্রশ্ন ব্যাংক থেকে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তুলে। ১৯৯১ সালের বিএনপি নতুন সরকারের প্রথম আন্দোলন ছিল এটি। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মেনে নিয়ে, ৫০০ প্রশ্নব্যাংক ১৯৯২ সালের এসএসসির পরীক্ষার জন্য স্থির করে দেন। এমসিকিউ ও রচনামূলকে সমন্বিত পাস হওয়ায় দেখা সেবার এসএসসিতে পাসের হার এক লাফে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতিতে চলতে থাকায় পাসের হার বাড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে পাসের হার ছিল ৪২.৬১ শতাংশ। এই ব্যবস্থায় পাস করে যাওয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে চাপে পড়তে হয়।
পরবর্তী সময়ে এমসিকিউ পদ্ধতি ঠিক রেখে ২০১০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়। পরের বছর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাসের হার ৮০ শতাংশ পেরিয়ে যায়। এ পদ্ধতি চালু হয়েছিল কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই। এ কারণে সরকারের সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায় ৪১ শতাংশ শিক্ষকই বোঝেননি সৃজনশীল পদ্ধতি। শিক্ষার্থীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, তেমনি শিক্ষকরা প্রশ্ন তৈরি করতে গিয়ে নানান বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে শুধু পাসের হারই বাড়িয়েছে। ২০১৪ সালে তা পৌঁছায় ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশে। গত ছয় বছরে সবসময়ই পাসের হার ৮০ শতাংশের বেশি ছিল।
সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির যাত্রা শেষে এ বছর থেকে চালু হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম। শিখনকালীন মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমেও শিক্ষকদের দক্ষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নতুন শিক্ষাক্রমের পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর পরীক্ষার ফলে প্রচলিত নম্বর বা গ্রেড থাকবে না। তিনভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। যারা মূল্যায়নের প্রাথমিক স্তরে থাকবে তাদের এলিমেন্টারি লেভেল (প্রাথমিক স্তর), পরের স্তর হবে মিডেল লেভেল (মধ্যম স্তর)। যারা সবচেয়ে ভালো করবে, তাদের এক্সপার্ট লেভেল (পারদর্শী স্তর)-এর সনদ দেওয়া হবে। এভাবে নম্বর গ্রেড দেওয়া হলে অভিভাবকদেরও আর জিপিএ ৫-এর পেছনে দৌড়াতে হবে না। তবে এই ধরনের নম্বর গ্রেডে আবার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, পরীক্ষা না হলে একজন শিক্ষার্থী শ্রেণির পড়া কেন পড়বে? করোনা ভাইরাসের মহামারীতে আমাদের শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনাকালীন অটো পাস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা না পড়েই উচ্চ শ্রেণিতে উঠেছে। একটা বিশেষ সময়ের কারণে অটো পাসের ব্যবস্থা মানা যায়। কিন্তু এখন পরীক্ষা ছাড়া, শুধু শ্রেণি মূল্যায়ন নিয়ে উচ্চশ্রেণিতে যাওয়ার ব্যবস্থা মানেই হচ্ছে- ভঙ্গুর শিক্ষিত জাতি তৈরি করা।
আমাদের দেশের শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ততটা উন্নত নয়। ফলে শহরের সঙ্গে গ্রামের শিক্ষার্থীদের বৈষম্য তৈরি করতে পারে এ শিক্ষা পদ্ধতি। এছাড়া একজন শ্রেণি শিক্ষক যে ছাত্রকে পছন্দ করবেন তাকে বেশি নম্বর দিতে পারেন। এজন্য শিক্ষককে জবাবদিহি করতে হবে না। আর যেসব অভিভাবক চাইবেন, তার সন্তান ভালো পড়ে উচ্চশ্রেণিতে যাক- তারা প্রাইভেট বা কোচিংয়ের দিকে মনোনিবেশ করবে। ফলে শ্রেণি শিক্ষা সে ততটা নিতে চাইবে না।
নৈর্ব্যক্তিক, সৃজনশীল বা গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে আমাদের সরকার গত তিন দশক ধরে গবেষণা করে কোথাও স্থির হতে পারেনি। প্রশ্ন থাকে, শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের ওপর একেক সময়ে একেক পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে আমরা কি দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারছি? তবে একটা স্থির পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি জন্য। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হতো। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে গিয়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেছে, করছে। এটা অব্যাহত রাখতে হবে। এ কারণে পাসের হার নয়, জিপিএ ৫ নয় মানসম্পন্ন শিক্ষিত জাতি তৈরি করা একান্ত কাম্য। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র তো, তাদের হাতেই থাকবে।
লেখক: সাংবাদিক
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
