নিউজ ডেস্ক।।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এরা নিজেদের মতো করে এক একটা গ্যাং গড়ে তুলছে। এই গ্যাংয়ের সদস্যদের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। গত বুধবার কিশোরগ্যাংয়ের হাতে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- এ সব কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতা হিসেবে রয়েছে তথাকথিত বড় ভাইয়েরা।
সূত্র জানায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এই কিশোর গ্যাং। এদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর। এরা তথাকথিত বড়ভাইদের শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
নিজেদের অধিপত্য বিস্তার করতে দেশি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে প্রায়ই। ইপটিজিং ও মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে তারা। গত বুধবার বিকাল সারে ৪টার দিকে সিনিয়র-জুনিয়র কেন্দ্র করে উপজেলা ইন্দ্রকুল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মো. নাফিজ মোস্তফা আসনারী (১৫) ও মো. মারুফ হোসেন (১৫) ও সিয়ামকে (১৫) চুরিকাঘাত করে একই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র সিফাত, সৈকতসহ একদল কিশোর।
পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নাফিজ ও মারুফকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ওই দিনই সন্ধ্যা সারে সাতটার দিকে তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়। সিয়াম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
নিহত নাফিজের মা মোসা. নার্গিস বেগম বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্ল্যেখ ও তিন কিশোরকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত শুক্রবার বাউফল থানায় মামলা করেন। পুলিশ সিফাত ও সৈকতকে গ্রেপ্তার করেছে।
উপজেলার প্রায় ইউনিয়নে কিশোর গ্রুপের মধ্যে হামলা পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাং সদস্যদের সংশোধন করতে অভিবাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহম্মেদ মনির হোসেন মোল্লা।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহম্মেদ মনির হোসেন মোল্লা বলেন, আমি কিশোরদের অভিবাবকদের না চেনার কারণে মাইকিং করেছি। আর যাদের চিনি তাদের অবিভাবকদের ডেকে এনে সংশোধন করার সুযোগ দিয়েছি। যদি তারা সংশোধন না হয় তা হলে আইন ও প্রসাশনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মধুসূধন সরকার বলেন, কিশোরদের এই অবক্ষয়ের জন্য আমি দায়ী করব তাদের মা-বাবাকে। তারা এত অল্প বয়সী সন্তানদের হাতে স্মাট ফোন তুলে দেওয়ার কারণে ইন্টারন্ট নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। সেখানে ফেসবুকসহ নানা পর্নো ভিডিও দেখে সময় ব্যায় করার কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
মা-বাবাদের উচিত সন্তানদের বিপথে পা বাড়ানোর আগেই যেভাবেই হোক তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি শুরুর দিকে শোধরানো যায় তা হলে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আমরা সব সময় নজরদারি করে থাকি। তাদের নিন্ত্রয়ণ বলেন, সংশোধন বলেন সমাজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে অভিবাবকদের। পাশাপাশি সচেতনতার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/০৩/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
