নিউজ ডেস্ক।।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিও বাস্তবায়ন না হলে শনিবার অধিদপ্তরে লংমার্চের ঘোষণা
দীর্ঘদিন থেকে প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে আসছে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেতন ছাড়ের দাবি না মানা হলে আগামীকাল শনিবার লংমার্চ টু মাদ্রাসাশিক্ষা অধিদপ্তর পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’ নামে শিক্ষকদের সংগঠনটি। দীর্ঘদিন থেকে প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে আসছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সংগঠনটির পক্ষে সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুর ২টার মধ্যে দাবি না মেনে নিলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে লংমার্চ-টু মাদ্রাসাশিক্ষা অধিদপ্তর কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন—সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাজাহান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নুরুননবী, মহাসচিব মো. শামছুল আলম প্রমুখ।
মাদ্রাসাশিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী গত ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলেও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। এতে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৯৪ সালে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের ভাতা দেওয়া শুরু হয় এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।
শিক্ষক নেতাদের দাবি, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

