ঈদের আগে টানা ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

নিউজ ডেস্ক।। 

বিক্রির চাপ কমায় ঈদের আগে দেশের শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নিয়মিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের গতি।

শনিবার (২৩ মে) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলো।

ঈদ কেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ কমায় শেয়ারবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ঈদের খরচের টাকার জন্য শেয়ার বিক্রি করেন। এ কারণে ঈদ আগে বাজারে এক ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। এবারও ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রির চাপ থাকায় কিছুদিন আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়েছে। এখন বিক্রির চাপ কমায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। অর্থমন্ত্রীর প্রায় তার বক্তব্যে শেয়ারবাজারের প্রসঙ্গ তুলছেন। সুতরাং এই সরকার শেয়ারবাজার ভালো করতে চাই এই বার্ত এখন স্পষ্ট। তবে প্রতিবছর ঈদের আগে শেয়ার বিক্রির একটা চাপ থাকে। এবারও সেটা ছিলো। সে কারণে কিছুদিন আগে বাজারে টানা দরপতন হয়। তবে এখন বিক্রির চাপ কমেছে। ফলে বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার এখন বিনিয়োগ উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে মন্দার মধ্যেও কিছু কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করা উচিত। বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে সঠিক সময়ে সঠিক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারলে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়। আবার ভুল সময়ে ভুল শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বড় লোকসানেও পড়তে হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, শনিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকাও বড় হয়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৭টির এবং ৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৬টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরডি ফুড।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- মীর আখতার হোসেন লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক, টেকনো ড্রাগস, নাভানা ফার্মা, সিটি ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৩৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.