শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ নকলে সহায়তা করা চারজন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। ২০২২ সালের আলিম পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নকল করতে সহায়তা করেছিলেন। নকলে সহায়তা করায় তাদের তিনজনকে কারাদণ্ড ও একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এমপিও বন্ধ হওয়া চার শিক্ষক-কর্মচারী হলেন, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এন জেড আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. মাহমুদুল হাসান, একই উপজেলার কলস নেছারিয়া আলিম মাদরাসার প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম, একই উপজেলার কালিকাপুর-নুরিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. আল আমিন ও দুমকী উপজেলার পাংগাশিয়া নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুস সাকুর।
নকলে সহয়তা করায় তাদের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করে তাদের শোকজ করেছে অধিদপ্তর। তাদের এমপিও কেনো চূড়ান্তভাবে বন্ধ করা হবে না তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে। সাত কর্মদিবসে মধ্যে শোকজের জবাব পাঠাতে বলা হয়েছে তাদের। সম্প্রতি তাদের পাঠানো শোকজ নোটিশ প্রকাশ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মো. জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের শোকজের জবাব অধিদপ্তরে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৭ নভেম্বর আলিমের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় ইংরেজি প্রশ্নের সমাধান নকলের কপি সরবরাহের সময় হাতেনাতে আটক হন পাংগাশিয়া নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুস সাকুর। তাকে দুমকীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ইমরান দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
একই পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে সহযোগিতা করায় গলাচিপার কালিকাপুর নুরিয়া ফাজিল মাদরাসার কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্ব থাকা এন জেড আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. মাহমুদুল হাসান ও কালিকাপুর-নুরিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. আল আমিনকে এক বছর বিনাশ্রম করাদণ্ড দেন গলাচিপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল। আর কলস নেছারিয়া আলিম মাদরাসার প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম নকলে সহযোগিতা করে পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন তিনি।
শোকজ নোটিশে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পাবলিক পরীক্ষা একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং পাবলিক পরীক্ষার মতো দায়িত্বশীল কাজে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী হওয়ায় এমপিও নীতিমালা অনুয়ায়ী চারজন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সাময়িকভাবে স্বগিত করা হলো। আর কেনো তাদের এমপিও চূড়ান্তভাবে বন্ধ করা হবে না, তার জবাব সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হলো।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
