শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এই মানদণ্ড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ৪৮ তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের মধ্যে ১৪টি বিভাগই এই মানদণ্ড ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মোট ২৬৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৩ শত ৪ জন। যেখানে ২৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছে। তবে মোট শিক্ষকের মধ্যে ৫৭ শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে আছে। অর্থাৎ বর্তমানে কর্তব্যরত শিক্ষকের সংখ্যা ২০৩ জন। যা ৩১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক।
এদিকে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক না থাকায় সময়মত ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়া, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সবগুলো বিভাগই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ। এছাড়া বিজ্ঞান অনুষদের ২টি, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪টি, প্রকৌশল অনুষদের ১টি এবং আইন অনুষদের ১টি বিভাগও রয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বাইরে।
এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে সবচেয়ে পিছিয়ে। এই বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪৪। বিভাগটিতে ৩৯৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ০৯ জন। অর্থাৎ প্রতি ৪৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ১ জন শিক্ষক। এরপরেই আছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। বিভাগটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪৩।
এছাড়া যেসব বিভাগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত নেই, সেগুলো হলো কলা অনুষদের বাংলা এবং ইংরেজি বিভাগ। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। বিজ্ঞান অনুষদের গনিত এবং রসায়ন বিভাগ। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাউন্টিং, মার্কেটিং এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ। প্রকৌশল অনুষদের আইসিটি বিভাগ এবং আইন অনুষদের আইন বিভাগ।
তবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এই বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১৭। অর্থাৎ প্রতি ১৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকদের এই সংকটটা রয়েছে। তবে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষার্থে আমাদের শিক্ষক শিক্ষার্থীর এই অনুপাতটা কমানোর কোনও বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে যেখানে যতজন শিক্ষক দরকার সেই হিসেবটা তারা যেন আমাদেরকে দেয়। তাহলে সে হিসেবে আমরা কাজ করতে পারবো।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
