জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোটের উদ্যোগে জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও উচ্চতর বেতন স্কেল প্রদান, সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য কার্যকর চাকুরীকালের ৫০% চাকুরীকাল গণনা করে সম্মিলিত পূর্ণাঙ্গ জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়ন ও বাদপড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে অদ্য ১৮ অক্টোবর ২০১৯ইং শুক্রবার সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোটের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী। এতে ৪ ভাগে বিভক্ত জাতীয়করণকৃত শিক্ষক সংগঠনগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোট গঠনের ঘোষণা করেন।
আমিনুল ইসলাম চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্যে প্রশাসনের মধ্যে থাকা অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দালাল শ্রেণীর কিছু সংখ্যক শিক্ষক নামধারী নেতা, অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা ২০১৩, বিধি ২ উপবিধি (গ) ও বিধি ৯ উপবিধি (১) এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি (চলতি দায়িত্ব, জ্যেষ্ঠতা ও বর্তমান পদোন্নতি তালিকা করতে) প্রচুর অর্থ নিরীহ শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে।
আর এই হয়রানির চুড়ান্তরূপ নিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ০৮.১০.২০১৭ইং তারিখের পত্রের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে ৭ দিনব্যাপী বিভাগ ওয়ারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের ডেকে এনে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের কার্যকর চাকুরিকালের হিসাব না ধরে বিধি ৯ উপবিধি (১) এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বেআইনীভাবে কার্যকর চাকুরীকালের তারিখের পরিবর্তে ০১.০১.২০১৩ (জাতীয়করণের তারিখ) ধরে জ্যেষ্ঠতা তালিকা করার মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে, জাতীয়করণকৃত সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির জন্য সহকারি শিক্ষকদের সম্মিলিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা করার বেলায় আবারো জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের বেসরকারি চাকুরীকাল ৫০% হারে গণনা না করে পূর্বের মৌখিক নির্দেশনায় ০১.০১.২০১৩ কথা বলে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক যতগুলো আইন পরিপত্র জারী করা হয়েছে তার কোন আদেশেই জাতীয়করণের তারিখ অর্থাৎ ০১.০১.২০১৩ তারিখ হতে চাকুরিকাল গণনা করার কথা বলা হয় নাই। এখন আবার ৬ বছর পর বিধি ৯ উপবিধি (১) এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে একই কায়দায় ষড়যন্ত্রকারীদের কুপ্ররোচনায় জাতীয়করণের পুর্বের বেসরকারি চাকুরিকাল গণনা না করে হিসাব রক্ষণ অফিসগুলো জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের উত্তোলিত টাইমস্কেল ফেরত প্রদানের জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিষয়টি এখন সিজিএ ভবন ও অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। বর্তমানে জাতীয়করণকৃত শিক্ষক অবসরে গেলে তাদের প্রাপ্ত টাইমস্কেল বাদ দিয়ে বিল করতে বলা হচ্ছে। জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও টাইম স্কেল সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের জন্য ২০১৭ সাল থেকে বহু আবেদন করেছি, মন্ত্রণালয় আমাদের পক্ষে অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছে কিন্তু অধিদপ্তর ৯(১) এর ভুল ব্যাখ্যার কোন সমাধান স্পষ্ট করেন নাই। বিধায় মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকগন নানা ধরনের হয়রানির শিকারহচ্ছে।
এসময় তিনি জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের বর্তমান সৃষ্ট জটিলতা ১) জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ ২) টাইমস্কেল প্রাপ্যতা ও ৩) বাদপড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মৃগেন্দ্র মোহন সাহা, প্রধান সমন্বয়কারী মো. আব্দুর রহমান বাচ্চু, সমন্বয়ক শেখ আব্দুস ছালাম, সমন্বয়ক মাহবুবুল আলম (মাহবুব), সমন্বয়ক মহিউদ্দিন খোন্দকার, সমন্বয়ক আব্দুল গফুর, যুগ্ম সমন্বয়ক মীর গিয়াস উদ্দিন, সদস্য মোমিনুল ইসলাম, শিহাবুল ইসলাম, অর্জুন কুমার দেব, সদস্য মোশাররফ হোসেন, সদস্য হুমায়ুন কবির, সদস্য নজরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, স্বপন কুমার, কামাল পাশা, এস কে মনির প্রমুখ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
