সরকারি স্কুল-কলেজে দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

শিক্ষক জাতির মেধা গড়ার কারিগর। শিক্ষকের মেধাশ্রমই জাতির অমূল্য সম্পদ। শিক্ষক আদর্শ মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেন। অনিয়ম-দুর্নীতিকে ঘৃণা ও না করার শিক্ষা দেন। আর সেই শিক্ষকরা যখন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়ান তখন সেটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দাঁড়ায়।

দশমিনা উপজেলার সরকারি কলেজ ও প্রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো যেন অনিয়ম আর দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অনিয়মে জড়ানোর অভিযোগ। নিয়োগ বাণিজ্য, প্রাইভেট বাণিজ্য আর দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন শিক্ষকরা। নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং এ শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছেছে। আর শিক্ষার্থীরা আসক্ত হচ্ছেন মাদক, মারামারি, অস্ত্রবাজি, কিশোর গ্যাং, প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো, রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা ও অনলাইন জুয়ায়। এতে শঙ্কিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ক্ষোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি সরকারিসহ ৪টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্যে ও প্রাইভেট বাণিজ্য জড়ানোসহ নানা অভিযোগ। উপজেলার এসএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাওছারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা লুট ও নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে গ্রুপিং জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। আলীপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে কর্মচারী নিয়োগে মোটা অর্থ বাণিজ্যর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ইউএনও বরাবরে। একই ইউনিয়নের বিবিরায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আছে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য করার পাঁয়তারার অভিযোগ। অন্যদিকে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন সৈকতের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা লোপাট আর গ্রুপিংয়ে জড়ানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই ইউনিয়নের হাজিরহাট নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন তুচ্ছ ঘটনায় নিজ প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হয়েছিলেন আলোচিত।

অন্যদিকে রনগোপালদী ইউনিয়নের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যর অভিযোগ আছে। অপরদিকে দশমিনা সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাগাতার অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাওছার বলেন, স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষকরা গ্রুপিং করছেন। আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী আনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে খারাপ লাগে।

শিক্ষক নিয়োগের সময় ভালো লোক নিয়োগ দেওয়া উচিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল যুগান্তরকে জানিয়েছেন, দশমিনা উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এ অবস্থাকে এক অচলায়তনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.