কালরাত্রি ও গণহত্যা দিবস স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিশালাকৃতির স্ক্রল পেইন্টিংয়ের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর ও শহীদ মিনারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে তারা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বজলুর রশিদ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন। এছাড়াও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, আমি মনে করি আমাদের নতুন প্রজন্ম অনেক কিছুই জানে না। এই অনুষ্ঠান গুলো আয়োজন করার মাধ্যমে, আমাদের নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে শিক্ষার্থী যারা, তারা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, আমাদের যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এই সম্পর্কে জানতে পারবে। আমাদের নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে কিভাবে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। এসময় তিনি চারুকলা বিভাগকে এরকম আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার মনে হয় এটি একটি ইউনিকভাবে স্মরণ করার চেষ্টা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে হয়েছে কিনা আমি জানি না। পুরনো ঢাকা ২৫ মার্চের রাত,২ ৬ মার্চের রাত, ২৭ মার্চ— সেগুলো দেখার সুযোগ হয়েছে। আমি অত্যন্ত গর্বিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুরনো ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে এভাবে গণহত্যার দিন স্মরণ করা আমি মনে করি, এটা ইতিহাসের একটা অংশ হয়ে থাকবে। আমরা যে কথাটি বলছি যে গণহত্যার আন্তর্জাতিকভাবে আমরা সবাই চাই এবং আমরা দাবি করি।
তিনি আরও বলেন, এই ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের দাবিটি আরো জোরালো হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে। কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গা গণহত্যাকে স্বীকার করে নিয়েছে, তারা স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরাও চাইবো শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারাবিশ্ব ২৫ মার্চের এই কালোরাত্রির গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিবে। এতে আমাদের জন্য বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
উল্লেখ্য যে, চারুকলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলোপ্তগীন তুষারের নেতৃত্ব চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে ২০ফুট/৬ফুট বিশাল আকৃতির ক্যানভাসে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্ক্রলপেইন্টিং করা হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
