মানবসভ্যতার বিকাশে এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের পথপরিক্রমায় বইয়ের ভূমিকা আমাদের জীবনে চিরপ্রবাহমান ছিল, আছে এবং থাকবে। বইয়ের শতসহস্র শব্দগুচ্ছ মানুষের মনের গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করে জাগিয়ে তোলে এক বিচিত্র অনুভূতির অসীম অনুরণন। বই একজন মানুষের শ্রেষ্ঠতম বন্ধু এবং কর্মক্লান্ত মানুষের একটুখানি অবসর। বইয়ের মধ্যে থাকা মূল্যবান তথ্য ও জ্ঞান আমাদেরকে শুধু শিক্ষিতই নয় বরং বই আমাদের মাঝে নিঃস্বার্থভাবে হৃদয়বৃত্তিকে জাগ্রত করে। আমাদের মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়ে এক অদ্ভুত আনন্দ প্রদান করে। এমনকি বইয়ের মাধ্যমে একজন মানুষের মেধা-মনন ও প্রজ্ঞার উন্নয়ন সংঘটিত হয়।
আমার কাছে মনে হয়, যেকোনো বইয়ের সঠিক মূল্যায়ন উপলব্ধি করতে পারে একজন প্রকৃত পাঠক-ই। তবে প্রত্যেক পাঠকের যেমন রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা রয়েছে একে অপরের থেকে, ঠিক তেমনি পাঠক উপযোগী বইয়ের মাঝেও রয়েছে বৈচিত্র্য। সব পাঠক যেমন একই মন মানসিকতার নয়, ঠিক তেমনি সব বইও সব পাঠকের জন্য নয়। খেয়াল করে দেখবেন_ অনেকসময় যখন একজন পাঠক খুবই মনোযোগ সহকারে কোনো বই পড়ে, তখন বইটির মাঝে যেন পাঠক নিজেকে, নিজের স্বভাববৈশিষ্ট্যকে, সর্বোপরি নিজের চিন্তাভাবনার মিল খুঁজে পায়। বইটির মাঝে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলে। মনে হয় যেন পাঠকের চিন্তাচেতনা জুড়ে বইয়ের সমগ্র বিষয় ভরে থাকে। মূলকথা হল, বইটি তখন পাঠককে এমনভাবে মোহাবিষ্ট করে যে, যেন বইটি একজন সরস গল্পকার।
তাই আজ দূর হয়ে যাক যত ক্লান্তি ও অবসাদ। আর বই পড়ার আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠুক আমাদর জীবন। কারণ বই-ই একজন মানুষকে পরিপূর্ণ করে তোলে।
লেখক-
নুজহাতুল জান্নাত মিথিলা
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
