ইসলাম ধর্মে মানবতার কল্যাণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ইসলামের মৌলিক বাণীই হল শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরের কল্যাণ কামনা।
মানবতার নবী ও বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার উম্মতকে সদা এই নির্দেশই দিয়েছেন তারা যেন ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করে।
ইসলাম সত্যের ধর্ম, আবার সহিষ্ণুতারও ধর্ম। ইসলাম চায় মানুষ তাকে গ্রহণ করুক, তাকে অনুসরণ করুক; কিন্তু এর জন্য কাউকে জোরাজোরি নয় বরং যুক্তি-বুদ্ধি ও মহানুভবতার আশ্রয় নেয় ইসলাম।
আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব উপাস্যকে ডাকে, তোমরা তাদের গালি দিও না (সূরা আনআম ৬: ১০৮)। এ থেকেই স্পষ্ট যে, কোনও মানুষ তো দূরের কথা, বিধর্মীদের মূর্তি বা উপাস্যদের ব্যাপারে কোনও বাজে মন্তব্য না করা একজন মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলো। লোকেরা উঠে (তাকে মারার জন্য) তার দিকে গেল। মহানবী (সা.) বললেন, তার পেশাব বন্ধ করো না। তারপর তিনি (সা.) এক বালাতি পানি আনলেন এবং পানি পেশাবের ওপর ঢেলে দেয়া হলো।’ (সহিহ বোখারি, কিতাবুল আদব)।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৮)
এছাড়া সোশাল মিডিয়াতেও প্রতিপক্ষ বা অপছন্দের মানুষদের গালি দেওয়া এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ইসলাম বিশ্বময় চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানবভ্রাতৃত্ব তথা বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলাম মানবীয় ভ্রাতৃত্বের এমন এক অনুপম ধারণা পেশ করেছে যা অতুলনীয়। ইসলামি আদর্শে গালমন্দ, অশ্লীল কথা ও কটূবাক্যের স্থান নেই। তাই একজন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে আমাদের সব ধরনের গালাগালি, কটুক্তি ও অপরজন কষ্ট পায় এমন আচরণ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। তবেই আমরা নিজেদের আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হিসেবে দাবি করতে পারবো।
লেখক: তরুণ আলেম ও ধর্মীয় গবেষক
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
