ইসলাম ডেস্ক ।।
মানুষের জীবন এক অনিশ্চিত যাত্রা। কখন কোন বিপদ সামনে আসবে কিংবা কোন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনবে, তা আমরা কেউ জানি না। অনেক সময় মানুষের নিজের ভুল নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো—সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশ্রয় প্রার্থনা করা।
বিপদাপদ কি কেবলই পরীক্ষা?
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)
বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ হতে পারে, আবার কখনো তা মানুষের কর্মফল হিসেবেও আসে। তবে নেককার ব্যক্তি বিপদে পড়েও মনে প্রশান্তি অনুভব করেন, কারণ তিনি জানেন এর বিনিময়ে আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করবেন। অন্যদিকে, পাপী ব্যক্তির জন্য বিপদ দুনিয়াতেই পরকালের যন্ত্রণার একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সব ধরনের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাই মুমিনের প্রধান কাজ।
বিপদ ও দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তির দোয়া
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এই দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই, ওয়া দারাকিশ শিকা-ই, ওয়া সু-ইল কাদা-ই, ওয়া শামাতাতিল আ ‘দা-ই।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই—১. কঠিন বিপদ-আপদ থেকে, ২. দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া থেকে, ৩. ভাগ্যের অশুভ পরিণতি (মন্দ ফায়সালা) থেকে এবং ৪. শত্রুর আনন্দিত হওয়া (উপহাস) থেকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬১৬, ৬৩৪৭; সহিহ মুসলিম: ২৭০৭)
আমলের নিয়ম
সকাল-সন্ধ্যায় কিংবা প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর গভীর বিশ্বাস ও মনোযোগের সঙ্গে এই দোয়াটি পাঠ করা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অকল্যাণকর পরিণতি ও লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদে রাখেন।
শিক্ষাবার্তা /এ/২৯/০৩/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
