টিকার দ্বিতীয় ডোজ চলমান রেখে স্কুল খুলে দেয়ার চিন্তা

নিউজ ডেস্ক।।

স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ চলমান রেখেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও ইতোমধ্যে বেশির ভাগ স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার প্রথম ডোজ দেয়া শেষ হয়েছে। শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ফেব্রুয়ারির পর স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়। এ দিকে স্কুলের পাশাপাশি মাদরাসা ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও করোনার টিকা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত রোববার কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিন ঢাকার মিরপুরের দু’টি মাদরাসার প্রায় ৭০০ জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

এদিন রাজধানীর মিরপুরের জামিয়া সিদ্দিকীয়া নূরানি মহিলা মাদরাসা ও হাজী আহমেদ আলী মক্কা ইন্টারথন্যাশনাল হিফজুল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের টিকাদানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা: আবু হোসেন মো: মাঈনুল আহসান বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এখনো সব মাদরাসা থেকে আমরা তালিকা পাইনি। কিন্তু যত মাদরাসা আছে সব খানে টিকা দেয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক প্রফেসর মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে জানান, করোনার টিকা দেয়ার জন্য এখন বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৭ বছর। এই বয়সসীমার মধ্যে শুধু মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ছাড়াও মাদরাসা ও কলেজ শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও। তিনি জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে এক কোটি ১৬ লাখ। এদের মধ্যে এক কোটি ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী করোনার টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে। এখন চলছে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কাজ। মোট কতজন শিক্ষার্থী এ পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা জানান, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ণয় করা এখন একটু কঠিন।

কেননা কলেজ স্কুল মাদরাসা ও কওমি সব মিলিয়ে একটি হিসাব চূড়ান্ত করে তবেই সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া যাবে। তবে খসড়া যে তথ্য মাউশিতে রয়েছে সেখানে সব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১২ থেকে ১৭ বছরের বয়সসীমায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে এক কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী। তবে দ্বিতীয় ডোজ চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বাকি শিক্ষার্থীদের করোনার প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ চলমান থাকবে। উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়।

যদিও শ্রেণিকার্যক্রম চলছিল স্বল্প পরিসরে। সব শ্রেণীর ক্লাস সব দিন হচ্ছিল না। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। গত ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ছুটি প্রথমে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জানালেও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ছুটি দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এ হিসেবে ছুটি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকবে। ২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। সরকার এখন ঘোষণা দিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলে দেয়া হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.