স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই কোথাও

নিউজ ডেস্ক।।

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই কোথাও। করোনা সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও গণপরিবহণ, বিপণিবিতান, হাট-বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বাস ও নৌ-টার্মিনাল, রেলস্টেশনে সম্পূর্ণ উলটো চিত্র। কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। মুখে মাস্ক ব্যবহার না করে হরহামেশা ঘোরাঘুরি করছে মানুষ। সুযোগ পেলেই চায়ের দোকানে আগের মতো জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে নেই কোনো সচেতনতা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকতে এখন পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। অধিকাংশ পর্যটক স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বেড়াতে গিয়েছেন। ব্যবহার করেননি মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রী। সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ কেউই মানতে চাইছেন না।

শনিবার রাজধানীর একটি বাসে দু-একজন ছাড়া প্রায় যাত্রীর মুখে মাস্ক ছিল না। পরিবহণ শ্রমিকদের বেশিরভাগের মুখে মাস্ক নেই। জীবাণুনাশকের ব্যবহারও নেই। হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠছেন যাত্রীরা। শনিবার দুপুরে গাবতলী থেকে গাজীপুরগামী বসুমতি পরিবহণের বাসে ৩০-৩৫ জন যাত্রী। তাদের দু-একজন ছাড়া চালক-হেলপারসহ কারও মুখে মাস্ক নেই। গাড়ির চালক বলেন, আগে তো করোনার ভয়ের চেয়ে পুলিশের ভয় বেশি ছিল। মাস্ক না পরলেই জরিমানা দিতে হতো। এখন কেউ কিছু বলে না। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা না থাকায় অনেকের মধ্যে তা মানতে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ লোকজনেরই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখা যায়নি।

দেখা গেছে, আসন সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে বাসগুলো। মাস্ক মুখে দিলে অনেকের হাঁসফাঁস লাগে। কেউ আবার গলায় ঝুলিয়ে, আবার কেউ নাকের নিচে মাস্ক রেখে চলছেন। কেউ পকেটে রেখে দিয়েছেন।

নিউমার্কেটের বিপণিবিতানগুলোতে শনিবার বিকালে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। চায়ের দোকান ও শপিংমলগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। রাজধানীর ঢাকা মেডিকেলসহ সরকারি হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার সচেতনতা। একসঙ্গে গাদাগাদি করে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন। রাত হলে হাসপাতালের মেঝেতে পাশাপাশি ঘুমাচ্ছেন। নগরীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি মানার উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেন যাত্রীদের মুখেও দেখা যায়নি মাস্ক। বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, করোনা শুরুর আগের চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেনাকাটা করছেন। মিরপুর, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও দেখা গেছে কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খাবার পরিবেশন করতে। ক্রেতারাও খাবার ক্রয়ে মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কোথাও সেভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বাস স্টেশন ও হাটবাজারগুলোয় স্যানিটাইজার তো দূরে থাক, সাধারণ সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও নেই।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার অধিকাংশই ঘুরছেন কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই। অফিস শুরু ও শেষ হওয়ার সময় সকাল ও বিকালে পরিবহণে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের অনেকেই বলেছেন, অনেকটা নিরুপায় হয়েই তাদের এভাবে যেতে হচ্ছে। কারণ অফিস তো বন্ধ হয়নি। আর এ সময়ে পরিবহণও ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাদের ভিড়ের মধ্যে বাসে উঠে ফিরতে হচ্ছে বাসায়।

বাণিজ্য মেলা : পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৬তম আসর। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলায় আসার কথা বলা হলেও তা মানছেন না দর্শনার্থীরা। ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে দর্শনার্থী কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব।

শনিবার সকালের দিকে মেলায় লোকজন কম থাকলেও দুপুরের পর থেকেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থী। প্রতিটি স্টলের সামনে উপচে পড়া ভিড়। লোকে লোকারণ্য বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ। খাবারের দোকান থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি স্টলের সামনে ভিড় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের। কোথাও পা রাখার জায়গা নেই। মুখে মাস্ক লাগিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেও ভেতরে তা ব্যবহার করছেন না তারা। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশের মুখে দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অথচ, স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করেই মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। মেলা কর্তৃপক্ষ বারবার মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করলেও ভেতরে তা মানছেন না তারা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.