যোগদান নিয়ে বিড়ম্বনায় ইনডেক্সধারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭৩ জন শিক্ষককে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান থাকায় নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা।

ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা বলছেন, সুপারিশ পাওয়া নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে হলে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ‘রিজাইন’ করতে হবে। নতুন প্রতিষ্ঠানে তাদের অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি হয়েছে। এই অবস্থায় ভেরিফিকেশন রিপোর্ট খারাপ আসলে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে। এক্ষেত্রে তারা দুই প্রতিষ্ঠানের চাকরিই হারাবেন।

প্রার্থীরা বলেছেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করে স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশপত্র দেয়া হলে এই সমস্যা হতো না। এই অবস্থায় নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান নিয়ে বিড়ম্বনায় রয়েছেন তারা। তাই ভেরিফিকেশন শেষ করে স্থায়ী নিয়োগের দাবি তুলেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার এক শিক্ষক জানান, আমার বাড়ি রংপুর। সিরাজগঞ্জ অনেক দূরে হওয়ায় তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছিলাম। এতে আমার বাড়ির পাশের একটি স্কুলে সুপারিশ পেয়েছি। তবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ায় সেখানে যোগদান নিয়ে দোটানার মধ্যে আছি। কেননা পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেগেটিভ আসলে আমরা ওই চাকরি স্থায়ী হবে না।

বগুড়ার আরেক প্রার্থী জানান, তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি চট্টগ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পেয়েছেন। এতে প্রথমে অনেক খুশি হলেও এখন যোগদান নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছি। এনটিআরসিএর উচিত ছিল ইনডেক্সধারীদের বিষয়ে আরও ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়া।

এদিকে এনটিআরসিএ বলছে, প্রার্থীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগদানের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয়া হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময় অপরাধ কার্যক্রমের সাথে লিপ্ত ছিল তাদের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া কারো সমস্যা হওয়ার কথা না।

এ প্রসঙ্গে এনটিআরসিএ’র সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে এখনো এমন কোনো বিষয় আসেনি। কারো যদি মনে হয় তাদের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট খারাপ আসতে পারে তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান না করলেই পারে।

স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দিয়ে দিয়েছি। এখন এটি আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যেভাবে চলছে সেভাবেই হবে। যারা যোগদান করবে না সেটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে এনটিআরসিএর কিছু করার নেই।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.