বিসিএস শিক্ষা অফিসারদের প্রমোশন কেমন হওয়া উচিত

বিসিএসের চাকরির জন্য আমরা মরিয়া সবাই। আমাদের দেশে বিসিএস চাকরির জন্য যে পরিমাণ নীতিমালা আছে তা আর অন্য দেশে নাই । আমাদের দেশে বিসিএসের প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে যত পরিমাণ লেখাপড়া করতে হয় তা Nasa এর প্রধান বিজ্ঞানীকেও করতে হয় না । সারাদেশ হতে বাছাই করা একঝাঁক মেধাবীদের নিয়ে বিসিএস এর বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয় । এরা দেশের সেরাদের সেরা হয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকে । আমার এ কথাগুলো হলো নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার আগের অবস্থা । এখন খুব গভীর ভাবে নজর দেওয়া যাক নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পরের অবস্থা।

আমি বিসিএসের সমস্ত সেক্টরের কথা বলবো না, আমার আলোচনার দিক হলো বিসিএস সাধারণ শিক্ষার অফিসারদের কথা। কারণ সব বিষয়ে আমার জ্ঞান নাই । কারণ একজন ইউনিভার্সিটির লেকচারার বা  scienties হিসেবে আমার শিক্ষার দিকে আলোচনা।বাংলাদেশের যতগুলো সরকারি কলেজ আছে সমস্ত কলেজের শিক্ষক হলো বিসিএসের সাধারণ শিক্ষার নিয়োগ প্রাপ্ত অফিসার । এই অফিসারগুলোর নিত্য দিনের কাজ হলো শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা, শিক্ষা নিয়ে ভাবা এবং শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা এবং শিক্ষার সমস্যা বের করা এবং সমস্যা সমাধানের পথ বের করা।  বাকি দায়িত্বগুলো একটু পরে বলি।

আসলে কি তাই ! নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসার গুলো কি শিক্ষা নিয়ে ভেবে থাকে, শিক্ষার সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণা করে থাকে, যদি করে থাকে তা হলে বাংলাদেশের শিক্ষার আজ এই অবস্থা কেন ?

চার বছরের অনার্স ৬/৭ বছর, দুই বছরের মাস্টার্স ৩/৪ব ছর কেন ? এখন আসি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা কোথায় । আসলে কি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সমস্যা আছে ? যদি থেকে থাকে তা হলে সমস্যা কোথায় বা কেন ?

আমার প্রশ্ন হল, যে শিক্ষাব্যবস্থার সমস্ত দায়িত্ব দেশের সেরা মেধাবীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে সেই শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা কেনই বা থাকবে। কেন অনার্স শেষ করতে  5 / 6 বছর সময় লাগবে  এবং মাস্টার্স শেষ করতে 3 / 4 বছর সময় লাগবে ? কেন একটা অপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকের সৃষ্টি করে।শিক্ষিত বেকার যুবক হতাশা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে সিগারেটের কালো ধোঁয়ার মতো জীবনটা কালো করে তুলছে।

এখন একটু কথা বলি বিসিএস সাধারণ শিক্ষার নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসারদের নিয়ে, যারা সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাদের অনেকের মেধা কোথায় হারিয়ে যায়, তা সরকার বা জাতি জানেনা । বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অফিসারদের যেভাবে প্রমোশন দেয়া হয়ে থাকে তার পক্ষে আমি নই বা অন্য দেশের সরকারি কলেজের শিক্ষার প্রমোশন অন্যভাবে দেয়া হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অফিসারদের প্রমোশন হয়ে থাকে চাকুরীর বয়স অনুযায়ী। lecturer হতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হতে প্রফেসর হওয়ার জন্য চাকরির বয়স ছাড়া অন্য কিছু দেখা হয় না। প্রমোশন হয়ে থাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয় চাকুরীর বয়সের ভিত্তিতে । আমার প্রশ্ন হল শিক্ষাবিদদের কাছে বা সরকারের কাছে প্রমোশন হওয়া উচিত যোগ্যতার ভিত্তিতে না কি বয়সের ভিত্তিতে ?

এখন নজর দেওয়া যাক অন্য দেশের সরকারি শিক্ষকদের প্রমোশনের দিকে । বেশি দূরে যাবো না, আমি যে দেশে থাকি এখানের কথাই বলি তা হলে বুঝতে সুবিধা হবে । আমি পোল্যান্ডের থাকি এবং একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হিসেবে জব করি এবং Ph.d ফাইনাল ইয়ারে আছি ।এ খানে প্রমোশন হয়ে থাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে মানে সাইন্টিফিক ইভমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে একজন লেকচারার হতেই অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হতে হলে Ph.d হতে হবে এবং এক বছরে সাধারণত তিন থেকে চারটি আর্টিকেল ভালো জানালে বের হতে হবে। পাঁচ-ছয়টা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স এর পেপার প্রেজেন্ট করতে হবে যদি কোন সাইন্টিফিক ইভমেন্ট না থাকে যদি ও সে 46 বছর চাকরি করে থাকে তা হলেও তাহার প্রোমশোন হবে না । অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হতে প্রফেসর হতে হলে সাধারণত তিন চারটা বই ভালো পাবলিকেশন হতে বের হতে হয় এবং আর্টিকেল ১০ থেকে ১৫ টা হতে হবে। যদি এগুলো না থাকে যদিত্ত সে ৫০বছর চাকরি করলেও সে প্রফেসর হতে পারবে না । যার ফলে এদেশের কলেজে ইউনিভার্সিটি গুলো হতে অনেক নবেল প্রাইজ উইনার বের হয়।  যেমন আমার বিশ্ববিদ্যালয় হইতে ৯ জন নোবেল প্রাইজ পেয়েছে।

এখন নিজের দেশের সরকারি কলেজের অফিসারদের কথা বলি। চাকুরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর একজন শিক্ষকের কতগুলো আর্টিকেল হয়েছে কতগুলো ইন্টান্যাশনাল জার্নালে আর্টিকেল আছে । অন্যদিকে অপরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থায় জন্য শিক্ষা অফিসারগুলো অনেক ক্ষেত্রে দায়ী কারণ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করার দায়িত্ব শিক্ষা অফিসারদের উপরেই ন্যস্ত করা।

শিক্ষার এই নাজুক অবস্থার জন্য আন সাইন্টিফিক প্রমোশন অনেকক্ষেত্রেই দায়ী । কারণ চাকুরির বয়স অনুযায়ী প্রমোশন হওয়ার ফলে বিসিএস শিক্ষা অফিসারদের মাঝে  scientific  achivement হারিয়েছে যার ফলে দেশ হতে ভালো কোন রিসার্চার বের হয় না এবং শিক্ষার সমস্যা সমাধানে এই শিক্ষকদের কোন অবদান থাকেনা। শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হলে বয়স ভিত্তিক প্রমোশন বন্ধ করতে হবে এবং সাইন্টিফিক এচিভমেন্ট এর উপরে ভিত্তি করে প্রমোশন ব্যবস্থা চালু করলে শিক্ষার এই দুরবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বের হয়ে আসবে।

লেখক-

মোঃ হুসাইন আলম
Ph.d fellow
University of Wroclaw
Poland


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.