সব আশাই শেষ বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক।।

প্রথম তিন ম্যাচের দু’টিতে বাজে হার। এরপর শেষ দুই ম্যাচে ভালো কিছু করার আশা জাগিয়েছিলেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ এবং কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। কিন্তু ওই পর্যন্তই। বরং গতকাল পারফরম্যান্স আরো খারাপ হয়েছে। প্রোটিয়া বোলিং অ্যাটাকের সামনে ১৮.৪ ওভারেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ মাত্র ৮৪ রানে। এমন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। তারপরও তাদের হারাতে হয়েছে ৪ উইকেট। ১৩.৩ ওভারে অর্থাৎ ৩৯ বল বাকি থাকতেই ৮৬ রান করে ৬ উইকেটের জয় পায় প্রোটিয়ারা। তাতেই বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেল বাংলাদেশ। আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের।

বল হাতে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন ২০ রানে ৩ উইকেট নেয়া কাগিসো রাবাদা। পুরো ইনিংসে ‘ডাক’ মেরেছেন চারজন (সৌম্য, মুশফিক, আফিফ, নাসুম)। এর মাঝে মুশফিক ছাড়া তিনজনই গোল্ডেন ডাক। পুরো ইনিংসে মাত্র তিনজনই যেতে পারেন দুই অঙ্কের ঘরে। ১৮তম ওভারে ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন মেহেদি হাসান।

বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন অবধারিত ছিল। কারণ সাকিব আল হাসান চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। তার জায়গায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ একাদশে সুযোগ পান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। এ ছাড়া বাজে পারফরম্যান্সে বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার জায়গায় এসেছেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা যথারীতি ধীরগতির ছিল। কাগিসো রাবাদার করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে লিটন দাসের সৌজনে আসে প্রথম বাউন্ডারি। জুটি জমে যাওয়ার পরও রাবাদার করা চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে লাইনে না গিয়ে উড়িয়ে মারতে যান নাঈম। মিড-উইকেটে হেন্ডরিক্সের তালুবন্দী হয়ে নাঈম ফিরেন ১১ বলে ৯ রানে। উইকেটে আসেন ফর্মহীনতায় ভোগা সৌম্য সরকার। তাকে প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন রাবাদা। ২২ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রাবাদার তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই মুশফিক আউট হয়ে যান। গালিতে থাকা হেনড্রিক্স দারুণ দক্ষতায় ক্যাচ নেন। ৩ বলে খালি হাতে ফিরেন মুশফিক। পাওয়ার প্লের ৩৬ বলে আসে মাত্র ২৮ রান।

উইকেটে আসেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এনরিখ নর্টজির করা অষ্টম ওভারের শেষ বলে এইডেন মার্করামর তালুবন্দী হয়ে ফিরেন ৯ বলে ৩ রান করে। পরের ওভারে আবারো বিপদ। আফিফ হোসেন ধ্রুব প্রিটোরিয়াসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন। ৩৪ রানে নেই ৫ উইকেট। ১০ ওভারে ওঠে ৪০ রান। একপ্রান্ত আগলে টেস্ট মেজাজে খেলছিলেন লিটন দাস। ১২তম ওভারে দলীয় ৪৫ রানে তিনি লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। ৩৬ বলে ১ চারে ২৪ রান করেন তিনি। এরপর শামীম আর মেহেদী মিলে টেস্ট মেজাজে খেলতে শুরু করেন। তাবরেজ শামসির করা ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅনের সীমানার কাছে কেশব মহারাজের তালুবন্দী হন ২০ বলে ১১ করা শামীম। ৬৪ রানে ৭ম উইকেটের পতন। স্কোর বোর্ডে আর ১৩ রান যোগ হতে রানআউট হন তাসকিন আহমেদ (৩)। ১৮তম ওভারে ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন মেহেদি হাসান। এনরিখ নর্টিয়ের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন ২৫ বলে ২৭ রান করা মেহেদি হাসান। এটাই দলীয় সর্বোচ্চ। পরের বলেই নাসুমকে (০) বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন নর্টজি। ১৮.২ ওভারে ৮৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শরীফুল ০* রানে অপরাজিত থাকেন।

জয়ের জন্য ৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই পেসার তাসকিন আহমেদের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন রেজা হেনড্রিকস (৪)। এরপর নিজেদের গুছিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। তবে পঞ্চম ওভারে মেহেদির বলে বোল্ড হন ১৫ বলে ১৬ রান করা ডি কক। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অ্যাইডেন মার্করামকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা নাঈম শেখের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডানহাতি এই ব্যাটার। নিজের প্রথম তিন ওভারে ১৪ রানে ২ উইকেট নেন তাসকিন। এরপর রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও টেম্বা বাভুমা মিলে দারুণ এক জুটিতে তোলেন ৪৭ রান। নাসুমের বল তুলে মারতে গিয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন ২২ রান করা ডুসেন। খানিকটা দৌড়ে গিয়ে মিড অনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন শরিফুল। অধিনায়ক বাভুমা ৩১ রানে অপরাজিত থেকে ৩৯ বল বাকি থাকতে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ১৮.২ ওভারে ৮৪/১০ (লিটন ২৪, মেহেদি ২৭, শামিম ১১, নর্টজি ৩/৮, রাবাদা ৩/২০, তাবরেজ ২/২১)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৩.৩ ওভারে ৮৬/৪ (ডি কক ১৫, বাভুমা ৩১*, ডুসেন ২২, তাসকিন ২/১৮, মেহেদি ১/১৯, নাসুম ১/২২)।
ফল : দ. আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.