দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরে জয় পাকিস্তানের

নিউজ ডেস্ক।।

পাকিস্তানের শক্তি সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ নেই। বিপরীতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া নামিবিয়াকেই ভয় ছিল বাবর বাহিনীর। কারণ নামিবিয়ার কাছে আনাকাক্সিক্ষত হারে ঐতিহ্যে আঘাত হানতে পারে পাকিস্তানের। যে কারণে শুরু থেকেই সাবধানী শুরু পাকিস্তানিদের। সম্মানে কোনো আঘাত হানতে দেয়া যাবে না মর্মে নামিবিয়ার বোলারদের বিপক্ষে আগ্রাসী অবস্থানে গিয়ে নির্ধারিত ওভারে ২ উইকেটে ১৮৯ রান করে পাকিস্তান, যা চলতি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে আফগানিস্তান ৪ উইকেটে ১৯০ রানের সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। পাকিস্তানের ১৮৯ রানের জবাবে খেলতে নেমে নামিবিয়া ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করলে ৪৫ রানের জয় পায় পাকিস্তান। ৭৯ রানে অপরাজিত থাকায় ম্যাচ সেরা হন পাকিস্তানের উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যান রিজওয়ান।

বিশ্বকাপে প্রথম পর্বে নামিবিয়া ৭ উইকেটে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে, নেদারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে, আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে এবং সুপার টুয়েলভ পর্বে ৫ উইকেটে হারায় স্কটল্যান্ডকে। পরে আফগানদের বিপক্ষে হারে ৬২ রানে। মানসিক শক্তিতে বালীয়ান নামিবিয়ার ক্রিকেটাররা ছিল অকুতোভয়। তারা জানে বড় দলগুলোর বিপক্ষে পরাজয়টা স্বাভাবিক। আর একটা জয় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে অনেক কিছুর। যে কারণে গতকাল টস জিতে পাকিস্তান ব্যাটিং নিতে ভুল করেনি।

পাকিস্তানের এক ওপেনিং জুটিই প্রতিপক্ষকে নাকাল করে ছাড়ছে। বাবর-রিজওয়ান এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয় এনে দিয়েছিলেন দলকে। ওই ম্যাচে তারা অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ১৫২ রানে। দুই ম্যাচ বিরতি দিয়ে আরো একটি শতরানের জুটি বের হয়ে এলো তাদের উইলো থেকে। নামিবিয়ার বিপক্ষে বাবর-রিজওয়ান ৮৬ বল খেলে ওপেনিং জুটিতেই তোলেন ১১৩ রান।
দুই ওপেনার বাবর আজম ও রিজওয়ান সাবধানী শুরুতে মারমুখী ভঙ্গিতে মোকাবেলা করতে থাকে নামিবিয়া বোলার রুবেন, ডেভিড, স্মিথ, ফ্রাইলিঙ্ক ও শিকোঙ্গোর মতো বোলারদের। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ২৯ রান করে দুই ওপেনার। দলীয় ৫০ রান আসে ৫৪ বলে আর দলীয় শতরান পূর্ণ হয় ১২.৬ ওভারে। এর মাঝে ৩৯ বলে ৫ চারে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন বাবর আজম। ওপেনিং জুটি বিচ্ছিন্ন হন দলীয় ১১৩ রানে। ওয়াইসির বলে ফ্রাইলিঙ্কের ক্যাচআউট হওয়ার আগে বাবর আজম করেন ৪৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৭০ রান।

ওয়ানডাউনে নামা ফখরজামান ফ্রাইলিঙ্কের শিকার হয়ে মাত্র ৫ রানে ফিরেন। এরপর মোহাম্মদ হাফিজ ও রিজওয়ান মিলে দলকে রানের চূড়ায় নিয়ে যেতে থাকেন। পাকিস্তান দলীয় ১৫০ রান করে ১৭.৪ ওভারে। রিজওয়ান ৪২ বলে ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত রিজওয়ানের ৫০ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৭৯ রান ও হাফিজের ১৬ বলে ৫ চারে অপরাজিত ৩২ রানের সুবাদে নামিবিয়ার টার্গেট দাঁড়ায় ১৯০ রানে। একটি করে উইকেট নেন ফ্রাইলিঙ্ক ও ওয়াইসি।

১৯০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই ওপেনার ভ্যান লিঙ্গেনকে ৪ রানে হারায় নামিবিয়া। এরপর সাহসী ব্যাটিং করে যান ক্রেগ উইলিয়াম ও স্টেফিন বার্ড। এ জুটি বিচ্ছিন্ন হয় দলীয় ৫৫ রানে। ৮.৪ ওভারে স্টিফিন রানআউট হওয়ার আগে করেন সমান ২৯ বলে একটি করে ৪ ও ছয়ে ২৯ রান। গেরহার্ড ফিরেন দলীয় ৮৩ রানে ১০ বলে একটি করে ৪ ও ছয়ে ১৫ রানে। তার উইকেটটি নেন ইমাদ ওয়াসিম। দেখে শুনেই এগোচ্ছিলেন ক্রেইগ উইলিয়াম। কিন্তু ছক্কার আশায় শাদাবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন ৩৭ বলে ৫টি চার ও এক ছক্কায় ৪০ রানে। ডেভিড ওয়াইসি বলতে গেলে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলেন। পাকিস্তানি বোলারদের সাধারণ বোলার মনে করেই ব্যাট চালাতে থাকেন। কিন্তু তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি সতীর্থরা। স্মিথ ফিরেন ২ রানে। নিকোল হাল ধরলেও ওভার যে ততক্ষণে শেষ। সাহসী লড়াই করে নামিবিয়া শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানই করতে পারে। ওয়াইসি ৩১ বলে ৩ চার ও দুই ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। আর নিকোলাস ৭ বলে ৭ রানে। ৪৫ রানের জয় পায় পাকিস্তান। হাসান, ইমাদ, রউফ, শাদাব একটি করে উইকেট পান।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.