বাকৃবির দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা পৃথক পৃথক দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে

তানিউল করিম জীম, বাকৃবি প্রতিনিধি।।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা পৃথক পৃথক দাবিতে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রবিবার দুপুর ১২টায় পশুপালন অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ওই মানবন্ধনের আয়োজন করে। একইদিন  দুপুর ১টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল ও পরে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। গত বুধবার থেকেই দুটি অনুষদের দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের দাবি, বিসিএসের মাধ্যমে টেকনিক্যাল ক্যাডারে কৃষি প্রকৌশলীদের নিয়োগ দিতে প্রতিটি উপজেলায় নতুন পদ সৃষ্টি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য আলাদা উইং চালু,  বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) কৃষি প্রকৌশলীদের নিজস্ব পদ নিরূপন করা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের অধীনে কৃষি বিষয়ে সরকারি স্কুল-কলেজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কৃষির পাশাপাশি কৃষি প্রকৌশলীদেরও সুযোগ প্রদান করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে এ অনুষদের শিক্ষকেরাও  একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ুয়া সব অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিসিএসে টেকনিক্যাল ক্যাডারের সুযোগ পেলেও শুধু কৃষি প্রকৌশলীরা এ সুযোগ পাচ্ছেন না। এটা একেবারেই অমানবিক।  কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ছাড়া সামগ্রিকভাবে কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে গত শুক্রবার ৪ দফা দাবি উল্লেখ করে উপাচার্যকে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করে তারা। এসময় ওই অনুষদের ডিনসহ সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত নতুন অর্গানোগ্রাম থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারিত কর্মকর্তা (এলইও) পদটি অর্থ মন্ত্রণালয় বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার আয়োজিত এক মানববন্ধনে পদটি পুনর্বহাল এবং অধিদপ্তরে ডাইরেক্টর পৃথকীকরণের দাবি করেন তারা।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে পদটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নতুন অর্গানোগ্রামে এ পদের জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় অর্গানোগ্রাম থেকে সুপারিশ করা এই পদ উঠিয়ে দিয়েছে, যা পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাণিসম্পদ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে শনিবার ওই অনুষদের ছাত্র সমিতির পক্ষ থেকে উপাচার্যকে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি ইসতিয়াক আহম্মদ পিহান বলেন, তাঁদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়, এ জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসতে হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.