নিউজ ডেস্ক।।
ঠিকাদারের অবহেলাসহ নানা করণে দেড় বছর পর প্রতিষ্ঠান খুললেও ক্লাসে ফিরতে পারছে না বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আনন্দ যারা কেড়ে নিয়েছে তাদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু। ইউএনও জানিয়েছেন, এ অবহেলার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ কর হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- পশ্চিম কারফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কুড়লিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতলা বাইনের দীঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পটিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুঠিয়ার নিত্যানন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয়রা বলেন, জল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম কারফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ৬/৭ মাস আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাঠদানের জন্য কোনো বিকল্প শেড না করায় বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও আসবাবপত্র বিভিন্ন বাড়িতে, চায়ের দোকানে এবং খোলা আকাশের নিচে স্তুপ আকারে ফেলে রাখা হয়।
প্রধান শিক্ষিকা শিপু রায় জানান, স্কুলের পাশে সুশান্ত সমদ্দারের একটি মুরগির ঘরে ক্লাশ নেয়া হবে।
স্থানীয় গোপাল হালদার জানান, ওই ঘরের এক কর্ণারে নির্মল নামক এক ব্যক্তি কয়েকটি বেঞ্চে প্রাইভেট পড়াতেন। পাশেই বস্তাভর্তি দুর্গন্ধযুক্ত মুরগি ও মাছের খাবার এবং ময়লা আবর্জনায় ভরা। খোলা ঘরের চারিদিকে মুরগির খামারে নেট দিয়ে ঘেরা।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রামেন্দু হালদার শিশির জানান, ভবনের ঠিকাদার এমপি সাহেবের নিকটআত্মীয়। বিকল্প শেডের ব্যাপারে বারবার বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।
উত্তর কুড়লিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পুরাতন ভবন এক বছর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই স্থানে কচুরিপানা ও পানি থৈ থৈ করছে। দূর থেকে দেখলে ওখানে একটি বিদ্যালয় ছিল বলে মনে হবে না। কিছু দূরে একটি বাড়ির ভেতরে কয়েকটি বেঞ্চ, টেবিল-চেয়ার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ওপরে ছোট আকারের একটি পলিথিন টানিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যা রানী পাঠদানের সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইন্দুভূষণ বাড়ৈ বলেন, এই অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী আনন্দ নিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে পারে না।
সাতলা বাইনের দীঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরিমল কুমার বাইন অনু জানান, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি দরপত্র হওয়ার কারণে বহু আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাঠদানের কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। তবে একটি অস্থায়ী শেড করার চেষ্টা চলছে।
পটিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের কাজ চলমান। বিকল্প শেডের ব্যবস্থা নেই। তবে প্রধান শিক্ষক অমল কৃষ্ণ জানান, নির্মাণাধীণ ভবনের দ্বিতীয় তলায় আপাতত ক্লাস নেয়া হবে।
নিত্যানন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের কাজ চলমান। পাঠদানের বিকল্প শেড নেই। তবে বিকল্প শেড করার প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মীর মহিদুল ইসলাম জানান, নতুন ভবন নির্মাণে পাঠদানের জন্য অস্থায়ী শেড নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ধরা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে ঠিকাদারকে বলে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম জানান, কিছু বিদ্যালয়ে পাঠদানে সমস্যা রয়েছে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণতি বিশ্বাস জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে দীর্ঘদিন পরে পাঠ গ্রহণে ফিরে যেতে পারে, সে ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, যাদের কারণে শিক্ষার্থীরা আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা কখনো ছাড় পাবে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও প্রকৌশলীর দায়িত্বে আবহেলা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
