নিউজ ডেস্ক।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা হয়েছে। এতে সংগঠনটির অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের অভিযোগ- এ হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসংলগ্ন বিএনসিসি ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রনিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবিতে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু টাওয়ার অতিক্রম করে বিএনসিসি ভবনের সামনে আসলে হামলা করে ছাত্রলীগের একদল কর্মী। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিলটি।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাইক শোডাউন দিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এতে আমাদের ১৯ নেতাকর্মী গুরুতরসহ আরও বেশ কিছু নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিচার দাবি করছি।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলকে বিতাড়ন করার সুগভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে বারবার আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ চায় ছাত্রদল যেন ক্যাম্পাসে না থাকতে পারে। আমরাও হুশিয়ার করে বলতে চাই- এই দিন দিন না আরও দিন আছে। আপনারাও বিরোধী দলে আসবেন এটিও মাথায় রাখবেন। এসব হামলার জবাব আপনারা পাবেন।
তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগের কেউ ছাত্রদলের ওপর হামলা করেনি। এটা তাদের প্রোপাগান্ডা, ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
ছাত্রদলের মিছিলে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, হামলা-মামলা-গুম আওয়ামী ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গত শনিবার ছাত্রলীগের কর্মীদের উসকানি দেওয়ার পর গতকাল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, মতিঝিল, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের বিক্ষোভে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, গ্রেফতার প্রমাণ করে ক্ষমতাসীন দল সিদ্ধান্ত নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করছে। এর দায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককেই নিতে হবে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে বিনা উসকানিতে ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম, সজীব হোসেন শান্ত, সোহাগ মাহমুদ, রায়হান, মেহেদী হাসান, জোবায়েরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ৪০নং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন ছাত্রদল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- হামলা-সন্ত্রাস চালিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম দমন করা যাবে না। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় দায়দায়িত্ব তাদেরই বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্ব এর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অভি আজাদ চৌধুরী নাহিদকে গত ২১ আগস্ট খিলগাঁও রেলগেট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং এখনও পর্যন্ত তার কোন খোঁজ না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মদদেই এখনো বিরোধী দল নিধনে বেপরোয়া কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে।
অভি আজাদ চৌধুরী নাহিদকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়ার ৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস না পাওয়া খুবই রহস্যজনক। গুম-খুনের বিরাজমান পরিস্থিতিতে মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, অশান্তি ও গভীর শঙ্কার মধ্যে দিনযাপন করছে। এই ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তার পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি অবিলম্বে তাকে প্রকাশ্যে উপস্থিত করার এবং মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
