মোহাম্মদ আলী শেখ।।
আনুমানিক ১৩ লক্ষ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে এক বছর যাবত ভর্তি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে । চার বছর ধরে একই বই পড়তে পড়তে তারা এখন বিরক্ত হয়ে গেছে। কোন কোন কোনবিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ একাধিক বার পিছিয়ে দিয়েছে ।আবার কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।করোনা পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ।শিক্ষার্থীরা যেন ঘরের মধ্যে পানি ছাড়া মাছের মত ছটফট করছে ।তাই কেন্দ্র সংখ্যা বাড়িয়ে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে , দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ করে তাদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন ।
২০ গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়ার যথেষ্ট অবকাঠামো আছে ।তারা ইচ্ছা করলে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সেপ্টেম্বর মাসেই পরীক্ষা নিতে পারে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে তা প্রশংসার দাবিদার । তারা বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষার কেন্দ্র করে পরীক্ষা নিবে।আরো ভালো হতো যদি করোনার কথা চিন্তা করে বিভাগীয় শহর গুলোর বাইরে সাবেক ১৯ টি জেলায় ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র করলে। কাজটি খুবই সহজ। অনুরূপভাবে ৩ গুচ্ছ, ৭কৃষি গুচ্ছ এ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
একই ভাবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ( যেমন বুয়েট, বুটেক্স, মেরিটাইম ,এভিয়েশন , ডুয়েট ) অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করতে কিংবা সমমানের অনেক সেট প্রশ্ন পত্র প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের কে বিভাজন করে( শিফটিং করে করে) নিজ নিজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে।
পাশাপাশি আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হল পরীক্ষার সময় দুপুর ১২ টা হতে কিংবা দুপুর দুটো তে শুরু করা যাতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধা মত জায়গায় থেকে সহজেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
অটো পাস এর দরুন ব্যাপক সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পাস করেছে। এ প্লাস এর ছড়াছড়ি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ না দিয়ে বাছাই করে অল্পকছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এমন শর্ত আরোপ করেছে যার ফলে ২০/২৫ হাজার শিক্ষার্থী ঘুরেফিরে সব জায়গায় দরখাস্ত করতে পেয়েছে। কেবল বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পেয়েছে ১লক্ষ ২৫ হাজারের উপরে। তাহলে দেখা যাচ্ছে এ প্লাস পাওয়া এক লক্ষ শিক্ষার্থী ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে (যেমন বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, কৃষি ,এভিয়েশন ,রাবিতে) দরখাস্ত করতে পারেনি । বিষয়টি তাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। অটো পাস তাদের মুখে হাসি ফুটালেও এখন তাদের মুখ মলিন হয়ে গেছে। ভর্তি পরীক্ষার বাছাইতে শর্ত শিথিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ভালো হতো।
সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল কাছাকাছি সময়ে প্রকাশ করতে হবে যাতে করে শিক্ষার্থী তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের সাবজেক্ট এ একবারেই ভর্তি হতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মার্কসের ভিত্তিতে ভর্তি করে থাকে ।অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করে তাহলে একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হবে। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
লেখক-
মোহাম্মদ আলী শেখ
সহকারী অধ্যাপক
কাদিরদী ডিগ্রী কলেজ
বোয়ালমারী ফরিদপুর।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
