সূত্র বলছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের সর্বশেষ সংশোধিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় তৃতীয় শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা না হলেও এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলেই অন্তত ৮৪১ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হবে। এদের এমপিওভুক্ত করা হলে বছরে ২৫ কোটির বেশি টাকা খরচ হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বিনা বেতনে চাকরি করা শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপনের অবসান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে পরবর্তীতে যারা এ স্তরে নতুন করে নিয়োগ পাবেন তারাও এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী- ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ডিগ্রি স্তরের ১৫৩ জন তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০১৮ সারের ২৮ আগস্ট ২০১০ সাল পর্যন্ত বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অপরদিকে ২০১০ সালের পর বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত আনুমানিক ৮৪১ জন তৃতীয় শিক্ষক রয়েছেন। এ সংখ্যক শিক্ষক এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এরা অর্থ বিভাগ কর্তৃক জনবল কাঠামোভুক্ত নয়। যে কারণে তৃতীয় শিক্ষকদের কাম্য যোগ্যতা, বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও কর্মরত থাকা সাপেক্ষে এমপিওভুক্তিকরণে অর্থ বিভাগের সম্মতির অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সাল থেকে ডিগ্রি পর্যায়ের তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া শুরু হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত এসব শিক্ষককে নিয়মিত এমপিওভুক্তি দেয়া হতো। কিন্তু ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নন-এমপিও শিক্ষকদের নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রদান এবং জনবলকাঠামো সম্পর্কিত নির্দেশিকা ২০১০-এ যা-ই থাকুক না কেন, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শ্রেণি, শাখা/বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে নিযুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। এই প্রজ্ঞাপনের পর থেকে ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক রুমানা পারভীন ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে তাদের এমপিওভুক্ত করার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চিঠি দিয়ে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে মতামত জানতে চান। মাউশির মতামতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজের জনবলকাঠামো-২০১০ প্রকাশের পর বিধি মোতাবেক সারা দেশে ৮৪১ জন তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের এমপিওভুক্ত করা হলে সরকারের বার্ষিক ২৫ কোটি এক লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, শিক্ষার মান রক্ষায় ডিগ্রিতে প্রতি বিষয়ে তিন জন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে হিসেব বিবেচনায় ডিগ্রি খোলার শর্ত হিসেবে বিষয়ভিত্তিক তিন জন শিক্ষকের কথা বলা হয়েছে এবং তারা সবাই এমপিওভুক্তির দাবি রাখে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
