এইমাত্র পাওয়া

বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিতে মহান আদর্শ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

।। মো. শহিদুল ইসলাম।।

বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিসংবাদিতভাবে বিশ্বের সর্বকালের শীর্ষ নেতা বলা হয়। যিনি বিশ্বের অন্যান্য বিখ্যাত নেতাদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবিচল অবস্থান, দীর্ঘকালীন সংগ্রাম, দেশ ও জনগণের জন্য অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ও ত্যাগের ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান নামটি সত্যিই অনন্য এবং অতুলনীয়। আজ একটি জাতি হিসেবে আমাদের সত্তা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা তিনিই সফলভাবে স্তম্ভিত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গুণাবলী, শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতি অবদান, দেশের জন্য ভালোবাসা এবং ত্যাগ তাকে কেবল এদেশেরই নেতা করে তোলেনি বরং আন্তর্জাতিক নেতাদের দ্বারা স্বীকৃত একজন পরিপূর্ণ মহান নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বর্ণাক্ষরে খচিত এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, আদর্শ, অতুলনীয় দেশপ্রেম, এবং মহান ব্যক্তিত্ব তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির মর্যাদা দান করেছে।

বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, লেখক, দক্ষ সাংবাদিক এবং অন্যান্য নেতারা তাদের লেখনী এবং ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্ব্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। নিম্নে বিভিন্ন ভাষায় প্রদানকৃত বিশ্ব নেতাদের কিছু মন্তব্য বাংলায় উপস্থাপন করছি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি আলফ্রেড কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ শেষে বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান একজন গভীর ধ্যান-ধারণাসম্পন্ন ব্যক্তি। একটি জাতির স্থপতি (জাতির জনক) এমন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আমার খুব কমই সাক্ষাৎ হয়েছে এবং একারণে আজকের সাক্ষাৎকারটি ছিল আমার জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা।‘

মিসেস গান্ধী ঢাকায় একটি জনসভায় ভাষণ প্রদানকালে বঙ্গবন্ধুকে সর্ম্পকে বলেছিলেন, ‘আজ আপনাদের প্রচুর অর্থের অভাব থাকতে পারে, তবে আপনারা এমন একজন বিশ্ব বিখ্যাত নেতা পেয়েছেন, যিনি তাঁর সারাজীবন আপনাদের কল্যাণে নিবেদিত করেছেন এবং আপনাদের দিয়েছেন ঐক্য ও সাহস। তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) আপনাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং আমার কোনও সন্দেহ নেই যে তার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হতে চলেছে।‘ তিনি বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর খবর পেয়ে বলেন, ‘শেখ মুজিব নিহত হওয়ার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তাঁর অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।‘
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাহসী নেতা।‘

নোবেল বিজয়ী ফিলিস্তান মুক্তি মোর্চার সাবেক নেতা ইয়াসির আরাফাত বলেছেন, ‘আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব এবং কুসুমকোমল হৃদয় ছিল মুজিবের চরিত্রের বিশেষত্ব।‘

বাঙালি কবি এবং প্রাবন্ধিক অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন, ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।‘

লন্ডন অবজার্ভারের প্রখ্যাত পাশ্চাত্য সাংবাদিক সিরিল ডান বঙ্গবন্ধুকে পর্যবেক্ষণ করে বলেছিলেন, ‘তাঁর শারীরিক উচ্চতা ছিল বিশাল। তাঁর কণ্ঠস্বর বজ্রধ্বনির ন্যায়। তাঁর ক্যারিশমা জনগণের মাঝে যাদুর মত কাজ করেছিল। তাঁর সাহস ও মনোমুগ্ধকতা তাকে এই সময়ে একক সুপারম্যান করে তুলেছিল।‘ তিনি একটি নিবন্ধে আরও উল্লেখ করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি রক্ত, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি এবং জন্মগতভাবে একজন পরিপূর্ণ বাঙালি ছিলেন।‘

বঙ্গবন্ধুকে বাঙ্গালিদের নায়ক হিসাবে ইঙ্গিত করে বিশিষ্ট মিশরীয় সাংবাদিক হাসনাইন হাইকাল, বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশেরই নন। তিনি সমস্ত বাঙ্গালির স্বাধীনতার পথিকৃত। তিনি আরও বলেছেন, তাঁর (শেখ মুজিবুর রহমান) বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ হল বাঙ্গালী সভ্যতা ও সংস্কৃতির নতুন উত্থান। অতীতের এবং সেই সময়ের মধ্যে মুজিব হলেন সেই বাঙালির নায়ক।‘

বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক স্যার মার্ক টুলি, যিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং বেশ কয়েকটি জনসভায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন, তিনি লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর একটি দুর্দান্ত কণ্ঠ ছিল যা জনতাকে মুগ্ধ করে তুলতো।‘

ব্রিটিশ সমাজতান্ত্রিক, রাজনীতিবিদ এবং যুদ্ধবিরোধী কর্মী লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘এক অর্থে শেখ মুজিব ব্রিটিশ মানবতাবাদী আন্দোলনের নেতা জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী এবং ডি ভ্যালেরা অপেক্ষা মহান নেতা।‘
বেদ প্রকাশ মারওয়াহ ছিলেন একজন ভারতীয় পুলিশ অফিসার, যিনি মণিপুর, মিজোরাম এবং ঝাড়খণ্ডের গভর্নর হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আমি আমার চাকরি জীবনে অনেক ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্বের সাথে দেখা করেছি, যার মধ্যে নেহেরু, গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং অনেক বিশ্বনেতৃবৃন্দ ছিলেন, তবে আমাকে বলতে হবে যে তাদের মধ্যে তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমার দেখা সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।‘
কিউবার সর্বোচ্চ নেতা ফিদেল আলেজান্দ্রো কাস্ত্রো রুজের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সর্বাধিক পরিচিত মন্তব্য, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় এই মানুষটি হিমালয়ের মতো। আমি এইভাবে হিমালয় প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।‘
বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের উপর্যুক্ত মতামতসমূহ জাতির পিতার অতুলনীয় নেতৃত্বেরই প্রমাণ বহন করে। স্যার উইনস্টন চার্চিল, মহাত্মা গান্ধী, আব্রাহাম লিংকন এবং নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বখ্যাত নেতাদের সাথে তুলনা করা হলে বঙ্গবন্ধু তাদের অনেকের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধু সকল যুগে, সকল জাতি, সকল সমাজে আদর্শ নেতা হিসেবে এক মহান অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের বাঙালি ‍জাতির অনুপ্রেরণার বাতিঘর। বিশ্ববাসী তাঁকে শ্রেষ্ঠ ও মহান বিশ্বনেতা হিসাবে তাদের হৃদয়ের গহীনে চিরকাল লালন করবে।

লেখক- প্রভাষক (ভূগোল)

রংপুর ক্যাডেট কলেজ, রংপুর ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.