অনলাইন ডেস্ক।।
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কমিশনের হাতে দেড় লাখের মতো ইভিএম আছে। আরো ৩৫ হাজার ইভিএম দ্রুত ক্রয় করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদের ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রায় দেড় লাখ ইভিএম লাগবে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির ঘাটতি না থাকলেও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে বরাবরই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, সব সংসদীয় আসনে ইভিএমে ভোট করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রেখে যাব। যদিও করোনার কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা সব আসনে ইভিএমে ভোট করতে পারব কি না, সেই সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। এটুকু বলা যায়, আমাদের এখন যে প্রস্তুতি, তাতে দেড় শ আসনে ভোট করা যাবে।’
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে সব নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি আসনে এই ভোটযন্ত্রে ভোট গ্রহণ করে কিছুটা সফলতা পায় ইসি। এরপর উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবহারে যায় ইসি। মাঝে বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন, সিটি নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় ইসির ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক জানান, প্রকল্পের আওতায় দেড় লাখ ইভিএম কেনা হয়েছে (মূলত এগুলো একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই কেনা হয়েছিল)। সেগুলোর মধ্যে ৮২ হাজার মেশিন মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৩৪ হাজার ইভিএম মেশিন তাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে (২০২০-২০২১) আরো ৩৪ হাজার মেশিন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ভোটযন্ত্রটি পরিচালনায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কারিগরি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসি সচিব স্বাক্ষরিত ঐ বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং স্কুল-কলেজের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেমে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রস্তুত করা হবে। এর আগে ২০২০ সালের জুনেও কিছু শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে সেখানে কারিগরি শিক্ষকেরা ছিলেন না। স্কুল-কলেজের আইসিটি শিক্ষকদের মধ্যে যারা দক্ষ, প্রতি উপজেলায় এমন ১০ জন করে মোট ৫ হাজার ১৯০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় যেটা হয়েছিল, সেটা খুব সীমিত আকারে। এছাড়া সেটিতে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষকেরাও ছিলেন না। বর্তমানে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটা ব্যাপক আকারে করা হবে।
২০১০ সালের ১৭ জুন দেশে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রচলন শুরু করে বিগত ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সে সময় তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা করে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইভিএম তৈরি করে নেয়। ঐ কমিশন এই যন্ত্রে ভোট নিয়ে সফলও হয়। পরবর্তীকালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ২০১৫ সালের ১৫ জুন ভোট নিতে গেলে একটি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। সেই মেশিন পরে আর ঠিক করতে পারেনি কমিশন। ঐ মেশিনগুলো নষ্ট করে নতুনভাবে আরো উন্নত প্রযুক্তির ইভিএম তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন তারা। কে এম নূরুল হুদার বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ২ লাখ ২০ হাজার করে ইভিএম তৈরি করে নিচ্ছে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে। এজন্য হাতে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
