অনলাইন ডেস্ক ।।
এপ্রিলে এ বছর বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ কারণে আগামী মাসে গত বছরের আম্ফানের মতো শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানতে পারে। তাছাড়া, আগামী মাসে আরেকটি তীব্র তাপদাহের স্বাদ পেতে পারে বাংলাদেশ। এ সময় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে।
এপ্রিলে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়নি। এমনকি উল্লেখযোগ্য কোনো লঘুচাপেরও দেখা মেলেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে মে মাসে যদি ঘূর্ণিঝড় হয়, তা হতে পারে বেশ শক্তিশালী।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বললেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এপ্রিলে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় না হওয়াটা অস্বাভাবিক একটি বিষয়। এমনটা ঘটেছিল গত বছর। এ সময় এপ্রিলে কোনো ঝড়ের সৃষ্টি হয়নি; ফলে মে মাসে আম্ফান আঁচড়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর যখন ঝড়ের সৃষ্টি হয়, তখন তা শক্তি সঞ্চয়ের জন্য যথেষ্ট সময় পায়। ঘন ঘন তৈরি হওয়া ঝড়গুলো সাধারণত প্রবল আকার ধারণ করে না।
তিনি বলেন, এপ্রিলে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড় হয়নি, এমন বছর খুব কমই আছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৫, ২০১১ এবং ২০১২ ছাড়া প্রতি বছরই এপ্রিল এবং মে মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বললেন, কোথায় ঘূর্ণিঝড়ের উদ্ভব, তার ওপরই নির্ভর করে এটি বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার নাকি শ্রীলঙ্কায় আঘাত হানবে। এ দেশগুলোতে আঘাত করা ঘূর্ণিঝড়গুলো বঙ্গোপসাগরের শেষ সীমানার দিকে তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘এখন সেখানে পানির তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। মাঝেমধ্যে এরচেয়েও সামান্য বাড়ছে। এটি এখন দিন দিন বাড়তে থাকবে। ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস একটি ঘূর্ণিঝড়ের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা। সুতরাং, মে মাসে সেখানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মে এবং জুন মাসজুড়ে সমুদ্রের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূলে থাকবে। জুলাইয়ে যদি তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, ঘূর্ণিঝড়ের পরিবর্তে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
