মোঃ আবুল হোসেন।।
স্বাধীনতার এত বছরেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের হলোনা কোন পরিবর্তন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজও উৎসব ভাতা পায় মূল স্কেলের ২৫ শতাংশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা।
সকলে পাবে সমান সুযোগ সুবিধা। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা হবে এক লেভেল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই স্বপ্ন আজও অপূর্ণ রয়ে গেল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও এখনো পর্যন্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্কেল পরিবর্তন, বাৎসরিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা ছাড়া তেমন কোনো সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেননি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নেই বদলির প্রথার ব্যবস্থা, নেই সন্তানের শিক্ষা ভাতা, নেই স্বল্প সুদে গৃহঋণ, নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের পরিবর্তে আছে অবসর ও কল্যান তহবিলের সুযোগ সুবিধা। অবসর ও কল্যান তহবিল মিলে এককালীন দেওয়া হয় ১০০ মাসের বেতন সর্বশেষ স্কেলের সমতুল্য টাকা। যা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি অংশ থেকে কর্তন কৃত টাকা। বর্তমানে অবসর ও কল্যান তহবিল মিলে একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি অংশ থেকে কর্তন করা হয় ১০ শতাংশ হারে। সরকারি অংশ থেকে কর্তনের ফলে একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সিংহভাগ চলে যায়। যার ফলে বেশির ভাগ শিক্ষককে চরম অভাবের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়।
একই সিলেবাস, একই পাঠ্যপুস্তক, একই মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই আইনের আওতায় ভুক্ত, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে সরকারির চাইতে বেসরকারিতে পাশের হার তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে তবুও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পায় ২৫ শতাংশ হারে। শিক্ষকদের পিছুটান রেখে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার জন্য দীর্ঘদিন যাবত জোর দাবি জানিয়ে আসতেছে। আমরা আশা করি আপনি এই পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
পরিবার বর্গকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উৎসব আনন্দ উপভোগ করতে চাই। আমরাও মানুষ আমাদেরও আছে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার। আর কতকাল বঞ্চিত হবো পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা থেকে। আমরাও চাই পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পায় ২৫ শতাংশ আর কর্মচারীরা পায় ৫০ শতাংশ এমন বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না। একজন কর্মচারী একজন শিক্ষককের চেয়ে উৎসব ভাতা বেশি পায় এটা একজন শিক্ষকের জন্য চরম অপমান জনক।
আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি চাই।বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২০০৪ সাল থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পেয়ে আসছে । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হচ্ছে উৎসব ভাতার কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করা হলো না। বর্তমানে সময়েও তা বহাল আছে। যুগের পরিবর্তন হলো কিন্তু বাস্তবতা হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রয়ে গেল এনালগ যুগে। প্রতিটি বেসরকারি এবং সরকারি পেশায় উৎসব ভাতা দেওয়া হয় মূল স্কেলের সমতুল্য টাকা কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা থেকে আজও বঞ্চিত।
বছরে মাত্র দুইটি উৎসব ভাতা দেওয়া হয় তাও আবার মূল স্কেলের ২৫ শতাংশ হারে যা বর্তমান সময়ে সত্যিই হতাশাজনক। বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় পৌঁছে গেছে। দেশের উন্নয়ন আজ আকাশচুম্বী। প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে পদ্মাসেতু সম্পূর্ণ দৃশ্যমান। এত বড় মেগাপ্রকল্পের কাজ বর্তমানে সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে। শুধু মাত্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকায় জং ধরে গেছে। আজও পর্যন্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের হলো না কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন। নাম মাত্র উৎসব ভাতা দেওয়া হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।
এ সামান্য উৎসব ভাতা দিয়ে পরিবার বর্গকে সন্তুষ্ট করাতো দূরের কথা নিজের প্রয়োজন টুকুও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আজ উৎসবের আনন্দ টুকু ম্লান হওয়ার পথে। পরিবার কিংবা সমাজে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সঠিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। উৎসব মানে আনন্দ এটা আজ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ভুলে যাবার উপক্রম হয়েছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা এবং সরকারি অংশ সহ যা পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসারের ভরনপোষণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে কীভাবে? নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থায় আছে অধিকাংশ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। প্রতিটি জিনিস পত্রের মূল্যের সাথে আয় ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি । বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডাক্তার ফি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন যাত্রার মান নিম্নমুখী।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত সিহংভাগ শিক্ষকদের বিকল্প আয়ের উৎস নেই।এই সামান্য বেতন ভাতা দিয়েই জীবন যাপন অতিক্রম করতে হয় খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে ।বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সীমিত আয় দিয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে বর্তমান যুগেও। যেখানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে অপর দিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পিছিয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাচ্ছে না সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে যথাযথ মর্যাদা।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সত্যিই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অবহেলিত। আমরাও চাই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের মধ্যে যথাযথ মর্যাদা।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ রইল, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা সহ সকল বৈষম্য নিরসনের ঘোষণা দিয়ে আমাদের পরিবার বর্গকে নিয়ে আনন্দের সাথে ঈদ উৎসব পালনের ব্যবস্থা করুন। সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ আপনার এই অবদানের কথা স্মরণ রাখবে চিরকাল।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
