দৌলতপুর(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি মিজানুর রহমান।।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্কুল ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত্যের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের হামলায় অভিভাবক সহ ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মথুরাপুর বাজারে অভিভাবকদের ওপর বখাটেদের হামলার এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও হামলাকারী কোন বখাটে আটক বা গ্রেফতার হয়নি বলে আহতরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার অভিভাবকদের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান গ্রামের আফিদুল বিশ্বাসের মেয়ে মথুরাপুর হাইস্কুলের ছাত্রী রিবানা খাাতুন (১৪) ও তার বন্ধবী মফিদুল হকের মেয়ে তাসমিন আক্তার (১৩), মেহেদী হাসানের মেয়ে উম্মে জুবাইয়া আজমি (১৩) এবং ওয়াজেদ আলীর মেয়ে রাইচা খাতুন (১৩) সংগবদ্ধ হয়ে মথুরাপুর হাইস্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াত করে। স্কুলে বা কোচিংয়ে যাতায়াতের পথে মথুরাপুর এলাকার আশিক, তৌহিদুল, বিপুল, আসাদুল, আসিক ও জুয়লে সংগবদ্ধ হয়ে ওই সকল ছাত্রীদের নানা ভাবে উত্ত্যক্ত্য করে।
এমনকি তারা স্কুলছাত্রীদের গায়ে হাত দিয়ে জোর করে ছবি উঠানোর চেষ্টা করে এবং হাত ধরে টানাটানিও করে। ওই সকল বখাটেদের নিয়মিত উত্ত্যক্ত্যের ঘটনায় অতীষ্ঠ হয়ে স্কুলছাত্রীরা নিজ নিজ পরিবারে অভিভাবকদের জানায়।
অভিভাবকরা বখাটেদের পরিবারের লোকজন বা অভিভাবকদের জানালে বখাটে যুবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মথুরাপুর বাজারে উত্ত্যক্ত্যের শিকার স্কুলছাত্রীদের অভিভাবকদের ওপর হামলা চালায়।
এসময় বখাটে যুবক আশিক, তৌহিদুল, বিপুল, আসাদুল, আসিক ও জুয়েল গংরা স্কুলছাত্রীদের পিতা আফিদুল বিশ্বাস, মহিদুল ইসলাম ও মফিদুল ইসলামকে হাতুড়ি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে।
আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে বখাটেরা ঘটনাস্থল থেকে নির্বিগ্নে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হামলার শিকার অভিভাবকরা মথুরাপুর বাজারে পান বিক্রয় শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। আহত মহিদুল ইসলাম দৌলতপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আফিদুল বিশ্বাস ও মফিদুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এ ঘটনায় আফিদুল বিশ্বাস বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে হামলাকারী বখাটেদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।
বখাটেদের হামলার ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল আলম জানান, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। অভিযান চলমান রয়েছে। আইন অমান্যকারী যেই হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
