২০২০ সনে যাদের হারিয়েছে ক্রীড়াঙ্গন

অনলাইন ডেস্ক ঃ
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২১। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০২০ সাল। ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা হওয়ার বছরে অনেক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন। বছরের শুরুতেই পরপারের টিকেট কাটেন আমেরিকার কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় কোবে ব্রায়ান্ট। ফুটবল অঙ্গনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন দিয়াগো ম্যারাডোনা, পাওলো রসি, আলেহান্দ্রো সাবেয়া, জেরার্ড হুলিয়ের ও বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গন কাঁপানো বাদল রায়ের মতো তারকারা। ক্রিটেক দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের জন রেইড, ডিন জোনস, আফগানিস্তানের নাজিব তারাকাইরা। এছাড়া ভারতের কিংবদন্তি হকি তারকা বলবীর সিং ৮ মে মোহালির এক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

১৯৪৮ লন্ডন অলিম্পিক, ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিক, ১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের হয়ে স্বর্ণ জেতেন বলবীর সিং। ১৯৫২ সালে অলিম্পিকের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একাই ৫ গোল করেছিলেন তিনি। অলিম্পিক ফাইনালে কোনো খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এটাই। সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। ১৯৫৬ অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের নেতৃত্বও দেন বলবীর সিং। ১৯৫৭ সালে প্রথম ভারতীয় হকি খেলোয়াড় হিসেবে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন বলবীর সিং। ১৯৭৫ সালে ভারতের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী দলের ম্যানেজারও ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে তাকে মেজর ধ্যানচাঁদ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ২০১২ সালে তাকে বেছে নেয় ‘আইকনিক অলিম্পিয়ান’ হিসেবে। ভারতীয় ও এশিয়ার একমাত্র পুরুষ হিসেবে এই সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। কোবে ব্রায়ান্টের মৃত্যু ছিল সব পৃথিবীর জন্য মস্তবড় এক ধাক্কাস্বরূপ। বছরের ২৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের কালাবাসাস নামক এক পাহাড়ি জায়গায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে মেয়ে জিয়ানাসহ পরপারে পাড়ি জমান তিনি। ১৮ বছর বয়সে খ্যাতির শীর্ষে ওঠা এ খেলোয়াড় লস অ্যাঞ্জেলস লেকার্সের হয়ে খেলেছেন দীর্ঘ ২০ বছর। ক্যারিয়ারে তিনি এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন ৫ বার।

দিয়াগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে এ বছর ফুটবল অঙ্গনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলা যায়। ২৫ নভেম্বর ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় ঘুম থেকে চিরঘুমের দেশে চলে যান তিনি। তার মৃত্যুতে ছায়া নেমে আসে পুরো পৃথিবীতে। বন্ধু-শুত্রু, নিন্দুক-শুভাকাক্সক্ষী সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। অবশেষে বাবা-মার পাশে দেশটির রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের বেলা ভিস্তায় চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হয় তাকে। মৃত্যুর পর ম্যারাডোনার নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় ঘোষণা করা হয় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। তর্কসাপেক্ষে ফুটবলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই খেলোয়াড় বলতে গেলে অনেকটা একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেন। ’৮৬ সেই বিশ্বকাপে মেক্সিকো দেখে ম্যারাডোনার বা পায়ের খেলা। সদা হাস্যোজ্জ্বল ম্যারাডোনার বদৌলতে বিতর্কিত ‘ঈশ্বরের হাত’ শব্দদ্বয়ও সেই বিশ^কাপেই পরিচিতি পায়। আর্জেন্টাইন এ কিংবদন্তি ন্যাপলসের ক্লাব নাপোলিকেও একক নৈপুণ্যে লিগ শিরোপাসহ ইউরোপিয়ান মঞ্চের মুকুট পরান। ম্যারাডোনার কৃতিত্ব বলে শেষ করার নয়। ফুটবলকে তিনি দুই হাত ভরে দিয়েছেন বললেও খুব একটা অন্যায় হবে না।

’৮৬-র বিশ্বকাপের নায়ক ম্যারাডোনার মৃত্যুর কদিন পর বিদায় নেন ইতালির ’৮২-র নায়ক পাওলো রসিও। ৯ ডিসেম্বর ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পাওলো রসির কল্যাণেই ১৯৮২ সালে ইতালি বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম হয়। ওই টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরমেন্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেরা খেলোয়াড় হন। সর্বোচ্চ গোলের জন্য পান গোল্ডেন বুট পুরস্কারও। এর মাধ্যমে তিনিই হন ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় কোনো ব্যক্তি যে কিনা একই টুর্নামেন্টে ৩টি পুরস্কার জেতার গৌরব অর্জন করেন। রসির আগে এই অর্জন ছিল ব্রাজিলের গারিঞ্চা ও আর্জেন্টিনার মারিও ক্যাম্পেসের।

বাংলাদেশের ফুটবল নক্ষত্র বাদল রায় দীর্ঘদিন প্রাণঘাতী রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে উঠেননি, মৃত্যুবরণ করেন ২২ নভেম্বর। এ ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮১-৮৬ পর্যন্ত ও মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে ১৯৭৭-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত খেলেন। দলটির হয়ে জেতেন ৫টি লিগ শিরোপা। নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক জন রেইড শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ১৪ অক্টোবর। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ডিন জোসন মারা যান তারও আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর। আফগানিস্তানের নাজিব তারাকাই মৃত্যুবরণ করেন ৬ অক্টোবর।
শিক্ষাবার্তা/ বিআ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.