মো. আবদুল বাছেত।।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিপথগামীরা যদি তাকে নির্মমভাবে হত্যা না করত, তাহলে অনেক আগেই আমরা সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে ভূষিত হতাম। জাতির পিতা সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকের পদকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদা ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তারপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অবশেষে ৩৮ বছর পর ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদায় কার্যকর হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকরা এখনও সেই দশম গ্রেডেই রয়ে গেছেন।
ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগের দশম গ্রেডের পদকে নবম গ্রেড তথা প্রথম শ্রেণির পদে উন্নীতকরণের প্রস্তাব সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।
অন্যদিকে নার্স, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, খাদ্য পরিদর্শক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্লক সুপারভাইজার (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা) পদগুলো নিম্ন গ্রেড (১৩, ১২, ১১) থেকে দশম গ্রেডে তথা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও অডিটর পদ দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাবান্ধব সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
৪৫ বছর আগে জাতির পিতার ঘোষিত দ্বিতীয় শ্রেণির সহকারী শিক্ষক পদের মানোন্নয়নের কোনো পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজের মধ্যে এক ধরনের অশান্তি বিরাজ করছে। সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নে সমগ্রেডের এবং পরস্পর বদলিযোগ্য পদের একটি আপডেট হলে বাকি পদগুলো আপডেট হওয়ার দাবিদার।
তিনটি বিসিএসের (৩৪, ৩৫, ৩৬তম) একঝাঁক মেধাবী, তরুণ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পিএসসির মাধ্যমে আরও দুই হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। এসব মেধাবী শিক্ষকের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়নের পথ আরও ত্বরান্বিত হবে। কিন্তু মাধ্যমিক স্তরের পদোন্নতি খুবই সীমিত ও ধীরগতি হওয়ায় এবং পদটি প্রথম শ্রেণির না হওয়ায় মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ পোষণ করছেন না এবং তরুণ মেধাবী শিক্ষক শিক্ষকতায় এলেও পরে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগ খুবই সীমিত। মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ পান। বাকি ৯৫-৯৬ শতাংশ শিক্ষক যে পদে (সহকারী শিক্ষক) চাকরি শুরু, সেই পদেই ৩০-৩৫ বছর চাকরি করে অবসরে চলে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তায় ভূষিত করুন। এন্ট্রি পদ নবম গ্রেড ধরে যৌক্তিক পদসোপান তৈরির মাধ্যমে নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হলে ৩০-৩৫ বছরের একই পদে থাকার বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
লেখক-
সহকারী শিক্ষক, বিএল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
