এইমাত্র পাওয়া

স্কুলবিমুখ শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে?

রহীমা খোন্দকার।।

করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চেই সংগত কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কিছুদিন আগে কওমি মাদ্রাসা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। দফায় দফায় বন্ধের সিদ্ধান্তে সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর আবারও ১৬ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসা খোলা রাখার পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল আছে। এতে করে গ্রামগঞ্জের স্কুল উপযোগী ছেলেমেয়েরা যাদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা তারা সবাই কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আগামী বছর শিশুশ্রেণি এবং প্রথম শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীর সংকটে ভুগবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্বব্যাপী করোনা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য সবকিছুতে আঘাত এলেও তা মোকাবিলায় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার ফলে ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া গেছে। একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ বিশেষ করে টেলিভিশন ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও প্রাথমিকে এই উদ্যোগ তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। মাধ্যমিকেও ছেলেমেয়েদের শিক্ষামুখী রাখতে বাড়িতে পরীক্ষা নেওয়াসহ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ অটোপ্রমোশনের সিদ্ধান্তে তাও তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

অভিভাবক-শিক্ষার্থী সবাই এখন বিরক্ত। কিন্তু প্রকৃতির এই চরম আঘাতের কাছে সবাই অসহায়। কবে যে এ থেকে আমরা মুক্তি পাব তা কেউই বলতে পারছেন না।

বাস্তবে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা। শিশুদের স্কুলমুখী করতে এমনতেই নানামুখী উদ্যোগ নিতে হয়। তারপরও ঝরে পড়ার হার কমানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার প্রাথমিকের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বই, তাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা এবং উপবৃত্তির মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের প্রায় একশ ভাগ স্কুলমুখী করতে সমর্থ হলেও করোনা সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে।

সরকার সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু কওমি মাদ্রাসাগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত হলো এগুলো খোলা থাকবে। এতে করে আগামী বছর শিশুশ্রেণি বা প্রথম শ্রেণিতে স্কুলে ছাত্রছাত্রী পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। অনেকে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তারা বলছেন স্কুল বন্ধ থাকায় আমরা ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় দিচ্ছি। এদের আদৌ স্কুলমুখী করা যাবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

লেখক-

প্রধান শিক্ষক (চ.দা.), সোনাগাজী, ফেনী


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.