এইমাত্র পাওয়া

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে কৃষি শিক্ষা নৈর্বাচনিক করা হোক

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ।।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ১১৫ পৃষ্ঠার এই রূপরেখা কিছু পরিমার্জন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমার মতামত হচ্ছে –

(১)রূপরেখার ২.১১ অধ্যায় ৩০ পৃষ্ঠায় ষষ্ঠ – দশম শ্রেণিতে ১০ টি বিষয় যেমন -বাংলা, ইংরেজি, গণিত, জীবন ও জীবিকা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প সংস্কৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের দেশের আর্থসামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থার প্রেক্ষাপটে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বিষয়ের প্রয়োজন নেই। কৃষি শিক্ষা বিষয় অর্ন্তভুক্ত করা প্রয়োজন।

কারণ-কৃষি শিক্ষার জ্ঞান দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান হয়, বেকারত¦ দূর হয়, দারিদ্রতা দূর হয়, জাতীয় আয় বাড়ে, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, উদ্যোক্তা হয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ রাখা (বর্তমান পদ্ধতি) প্রয়োজন । অন্যথায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমস্যা হবে।

(২)রূপরেখা ২.১৩.১ অধ্যায় ৮৫ পৃষ্ঠায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে নৈর্বাচনিক বিষয়ে কৃষিশিক্ষা অর্ন্তভুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ এইচএসসি পাস করে প্রতি বছর ২-৩ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দেয়। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে কৃষিশিক্ষার জ্ঞান অর্জন কৃষি উৎপাদনে কাজে লাগতে পারে। এতে শিক্ষার্থী ও দেশ উভয়ই উপকৃত হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই কৃষিশিক্ষার উপর গুরুত্ব দেন। কৃষি প্রধান এই দেশে কৃষির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃষিশিক্ষা ঐচ্ছিক গ্রুপে থাকায় শিক্ষার্থীরা কৃষিশিক্ষা পড়ে না। যার ফলে প্রতি বছর ১০-১২লাখ শিক্ষার্থী কৃষির জ্ঞান থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে।

(৩)রূপরেখা ২.১৬ অধ্যায়ে ৯৬ পৃষ্ঠায় মূল্যায়ন ও রিপোটিং ব্যবস্থায় ৯ম-১০ম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০% ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০% রাখা হয়েছে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০% ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০% রাখা হয়েছে। সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পাবলিক পরীক্ষা/প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় ১০০% নম্বর রাখা প্রয়োজন। শিখনকালীন মূল্যায়ন রাখা যাবে না।কারণ-এতে শিক্ষার্থীরা মোটেও লেখাপড়া করবে না। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। অসৎ বা দুর্নীতিবাজ শিক্ষকরা নম্বর বেশি দেয়ার কথা বলে আর্থিক ও যৌন হয়রানি করবে। সৎ শিক্ষকরা বিভিন্ন মানুষের চাপে শিক্ষার্থীদের নম্বর দিতে বাধ্য হবে। এতে প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে।

রূপরেখার ৯৭ ও ৯৮ পৃষ্ঠায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষার প্রায়োগিক বা ঐ”্ছকি একটি বিষয়ে হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিখনকালীন মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা ছাড়া কোন শিক্ষার্থীই লেখাপড়া করে না। পরীক্ষা ছাড়া নম্বর দিলে শিক্ষার্থী ঐ বিষয়ে কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরণের বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলোর পরীক্ষা নেয়ার নিয়ম নেই। এই বিষয়গুলোতে শিক্ষকরা স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, সুপারিশ, প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেয়। অথচ শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো কøাস না করে ও না পড়ে পূর্ণ নম্বর পায়।
উক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
লেখক-
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত লেখক
সহকারী অধ্যাপক, কৃষিশিক্ষা
শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, ভ‚য়াপুর, টাঙ্গাইল


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.