নিজস্ব প্রতিবেদক।।
করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ফি আদায় না করার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বুধবার (১৮ নভেম্বর) দেওয়া এই নির্দেশনায় আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের কিছুটা ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলেছে মাউশি। তবে, এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা খুশি হলেও অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবকদের দাবি, এই নির্দেশনা গোঁজামিলে ভরা। সরকারের উচিত, কোন কোন খাত থেকে টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া।
জানতে চাইলে অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘আমরা এমন নির্দেশনা চাইনি। যারা পুরোপুরি আর্থিক সংকটে আছে, তাদের জন্য টিউশন ফি ফুল ফ্রি চেয়েছি। যারা মোটামুটি আর্থিক সংকটে আছে, তাদের জন্য হাফ টিউশন ফি করতে হবে। আর টিউশন ফির ক্ষেত্রে কোন কোন খাত থেকে বাদ দেওয়া হবে, তাও নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।’
অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ক্লাসের বাইরে। সরকার যেসব ফি মওকুফ করেছে, এগুলো তো আমাদের সন্তানরা এমনিতে ব্যবহার করেনি। আমাদের দাবি টিউশন ফি ফুল ফ্রি বা হাফ ফ্রি করতে হবে।’
এদিকে, মাউশির নির্দেশনায় সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে উভয় দিক রক্ষা হবে। সবাই উপকৃত হবে।
আরেক শিক্ষক মারুফ হাসানের মতে, ‘সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। টিউশন ফি আদায় না করলে শিক্ষকরা চলবেন কী করে?’
বুধবার (১৮ নভেম্বর) মাউশি থেকে বলা হয়েছে, প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমপিওভুক্ত-এমপিওবিহীন) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি নেবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি নিতে পারবে না। নিলেও ফেরত দিতে হবে অথবা টিউশন ফি’র সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া, তবে যদি কোনো অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে পড়েন, তাহলে তার সন্তানের টিউশন ফি’র বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিশেষ বিবেচনায় নেবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের শুরুতে যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন, উন্নয়ন ফি নেবে না, যা ওই নির্দিষ্ট খাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারবে না। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের মতো সব ধরনের যৌক্তিক ফি নেওয়া যাবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘অভিভাবকদের অসুবিধার কথা ভাবতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন বন্ধ হয়ে না যায় কিংবা বেতন না পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন যেন চরম সংকটে পতিত না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কোনো কারণে ব্যাহত না হয়, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।’
উল্লেখ্য, করোনার কারণে চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে, সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসের পাশাপাশি বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করলেও, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে করতে পারেনি।সুত্র রাজিংবিডি
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
