মোঃআরাফাত হক।।
বাংলাদেশে বর্তমানে সবচাইতে বঞ্চিত শিক্ষকের নাম অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক। তারা সরকারের কাছ থেকে এক আনাও সম্মানী বা অনুদান পায় না। তারা আজ ২৮ বছর যাবত অবহেলিত। কেউ কথা রাখেনি! বার বার নীতিমালার দোহাই দিয়ে এই শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
প্রাইমারি থেকে শুরু করে ডিগ্রি পর্যন্ত সব পর্যায়ের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারে। এমনকি মাদ্রাসা বিভাগে কামিল শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারে কিন্তু আমরা এতই অভাগা যে সর্বোচ্চ শিক্ষাদানে নিয়োজিত অথচ এমপিও পাই না।
এই শিক্ষকদের হাত ধরেই সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করে আমাদের ছেলেমেয়েরা আজ প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডার থেকে শুরু করে অনেক গুরত্বপূর্ণ পদে চাকরি করছে অথচ তাদের শিক্ষকরা এখনো বেতন-ভাতার বাহিরে। এই লজ্জা কার! বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে যা দেয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল এ যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। অনার্স -মাস্টার্স শিক্ষকরা আজ বড়ই অসহায়।
না পারছে পরিবারের প্রয়োজনটুকু মেটাতে, না পারছে তার অসুস্থ বাবা- মায়ের চিকিৎসা করাতে। করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ আট মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের কলেজের যৎসামান্য সম্মানিও বন্ধ। তারা আজ অভাব-অনটননে জর্জরিত হয়ে আছে।
মানুষের কাছ থেকে ধার /হাওলাত- ঋণ নিয়ে একদিকে যেমন ঋণগ্রস্ত। অন্যদিকে ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ, পরিবার-পরিজন পরিচালনা, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, দোকানদারের বাকি, সন্তানের আবদার সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষকরা আজ নিষ্পেষিত-নির্যাতিত। কে দিবে এর সমাধান।
শিক্ষকরা আজ পেটের দায়ে কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ যোগালি, কেউ কাপড় বিক্রেতা, কেউবা অটো ড্রাইভার আবার কেউ কেউ পরের জমিতে হালচাষ করে জীবন বাঁচিয়ে রাখার একান্ত চেষ্টা।
অথচ এই শিক্ষকরা নাকি জাতির বিবেক। এই বিবেককে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা সরকারের তরফ থেকেই করতে হবে। কারণ তারা এই দেশেরই সন্তান। তাদের সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। ভিনদেশী ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা যদি এদেশে থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা পেতে পারে তাহলে এদেশেই জন্ম নেয়া আমরা (অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষকরা) কি পাপ করেছি? উচ্চ শিক্ষার শিক্ষক হয়েছি বলে।
অনার্স ও মাস্টার্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আজ বড়ই অসহায়। তাদের এই আসাহায়ত্য থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা -২০১৮ সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করে এমপিওভুক্ত করা। তাহলেই মুক্তি পাবে এই অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ও তাদের পাঁচ হাজার শিক্ষক পরিবার। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি এই অসহায়ত্ব শিক্ষকদের বাঁচান, তাদের বাঁচার অধিকার দিন।
লেখক-
প্রভাষক ( ব্যবস্হাপনা বিভাগ)
ডেমরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
