সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সব প্রস্তুতি শেষ। আজ বুধবার দুর্গতিনাশিনী দশভুজা দেবীর বোধন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু। ঢাকের বোল, কাঁসর ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে দেশের পূজামণ্ডপগুলো। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে পূজার জৌলুস থাকবে কম।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বর্গলোক কৈলাস ছেড়ে মর্তে আসেন দেবী দুর্গা। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। দেবীর অবস্থানকালে পাঁচদিন পৃথিবীতে ভক্তরা দেবী মায়ের বন্দনা করে। এই বন্দনাকে কেন্দ্র করে দেশবাসী মেতে ওঠে উৎসব আনন্দে।
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ সাদা পোশাকের পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে।
করোনার কারণে এবার আনন্দময়ীর আগমন ঘিরে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে আনন্দের অনেকটা ভাটা পড়েছে। এবারের দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা ৩০ হাজার ২১৩টি, যা গত বছরের চেয়ে এক হাজার ১৮৫টি কম।
পঞ্জিকা মতে, মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা-এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। দেবীপক্ষের শুরু হয় যে অমাবস্যায়, সেদিন হয় মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সেদিন ‘কন্যারূপে’ মর্তে আসেন দেবী দুর্গা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ বুধবার পঞ্চমী তিথিতে দেবীর বোধন হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠান। আগামী সোমবার মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
