এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে পারছে না

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এ মুহূর্তে ভিসা দিতে পারছে না। করোনা মহামারীর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একেক রাজ্যে একেক ধরনের বিধিনিষেধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছে না কেন্দ্রীয় সরকার। এ জন্য আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।
গতকাল ঢাকা সফররত মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড বিগানের সাথে বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এসব কথা জানান। বিগান তিন দিনের সফরে বুধবার বিকেলে দিল্লি থেকে ঢাকা এসে পৌঁছান। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। রাতে হোটেল ওয়েস্টিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও নৈশভোজে অংশ নেন বিগান।
শাহরিয়ার আলম বলেন, করোনা টিকা, জিএসপি সুবিধা, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত দেয়া নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা টিকা উৎপাদন সফল হলে তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে। বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগে টিকা উৎপাদনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনায় এ মুহূর্তে জেএসপি নিয়ে আলাদা করে আলোচনায় বসতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে সার্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনাধীন রয়েছে।
এডওয়ার্ড বিগান আজ সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সাথে বৈঠক করবেন। এরপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
ঢাকা সফরকালে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্ত ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও মহামারীর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উপায় এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেবেন। অন্য দিকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, তৈরী পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সহজীকরণের ওপর জোর দেবে।
এডওয়ার্ড বিগানের ঢাকা সফর নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইন্দো-প্যাসিফিক সামরিক অধ্যায়ে বাংলাদেশ যুক্ত হতে আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চায়। কিন্তু আমরা চাই শান্তি। তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগের কার্যকারিতার জন্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, শুধু কথা বললে হবে না। এডওয়ার্ড বিগানের সফরে বাংলাদেশ অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চাইবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চায়, তবে আমাদের তৈরী পোশাক রফতানির ওপর অন্তত তিন বছরের জন্য শুল্ক তুলে নিতে হবে।
মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাচ্ছে না। অথচ ভারতীয় শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে। এটা বৈষম্যমূলক।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড বিগান গতকাল বুধবার থেকে শুক্রবার ঢাকা সফর করবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য সবার জন্য সমৃদ্ধি অর্জনে একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে অভিন্ন পরিকল্পনা, কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে এগিয়ে নেয়া।
এডওয়ার্ড বিগান গত সোমবার ভারত পৌঁছান। দিল্লি অবস্থানকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র সচিব ও প্রতিরক্ষা সচিবের সাথে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া ইন্ডিয়া-ইউএস ফোরামে প্রধান বক্তা হিসেবে বিগান বক্তব্য রাখেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.